বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।’
সচিবালয়ে মঙ্গলবার সকালে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায়।
জাতিসংঘ প্রতিনিধির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’
সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে রড্রিগেজ বলেন, ‘আপনি কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহী।’
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপি’র সহায়তার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন- পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’
রড্রিগেজ জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন এরইমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারেন।’
প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবী-সহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখায় এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে রড্রিগেজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।’
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।