ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) তামাক কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে পৃথক ‘স্মোকিং জোন’ স্থাপন নিষিদ্ধের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বরাবর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার প্রতিনিধি হিসেবে দুইজন ঢাবি শিক্ষার্থী তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুইটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
প্রথম চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
দ্বিতীয় চিঠিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক ‘স্মোকিং জোন’ স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কপিও উপাচার্যের কাছে দেয়া হয়। প্রতিনিধিরা জানান, ‘আইন অনুযায়ী তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসে পৃথক ‘স্মোকিং জোন’ স্থাপনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
উপাচার্য প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। উপাচার্য জানান, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’
বাটার প্রতিনিধিরা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত রাখতে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’