Image description

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ (ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট) প্ল্যান্ট আছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্টটি পুরোদস্তুর রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাসের মধ্যে রিফাইনারিটি উৎপাদনে যাচ্ছে বলেও খবর চাউর আছে।

বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে প্ল্যান্টটির। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন না নিয়েই এটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের পুরোদস্তুর রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের তথ্য জানা নেই অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। এমনকি সম্প্রসারণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সেক্টরটিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। বার্ষিক ১৫ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতার ওই প্ল্যান্টটি ১৯৬৮ সালে উৎপাদনে যায়। এর তিন বছর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও নতুন কোনো পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বিপিসি।

জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৩ সালের বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের জ্বালানি নীতিমালাটি বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু পরে নীতিমালাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ওই নীতিমালার আলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)।

আবেদনে পুরোনো সিআরইউ প্ল্যান্টের সঙ্গে বছরে সোয়া ১৯ লাখ টন ক্রুড/কনডেনসেট পরিশোধনের রিফাইনারি প্রতিষ্ঠাসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিপণনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়।

 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির কমিটি

এরপর জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি। ওই কমিটিকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রতিষ্ঠানটির (এসপিএল) আবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে কমিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন ব্যবস্থাপককে কো-অপ্ট করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিটির কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সিআরইউ প্ল্যান্ট এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। ৮ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দেন সাত সদস্যের সেই কমিটি।

কমিটি প্রতিবেদনে যা জানায়

প্রতিবেদনে ‘নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান ও প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে রিফাইনারির চূড়ান্ত অনুমোদন, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ এবং বিপণনে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলে সুপারিশ করে বিপিসির কমিটি।

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে বর্তমানে ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ১৬ হাজার ৯শ ব্যারেল হিসেবে বার্ষিক ছয় লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ক্রুড/কনডেনসেট অয়েল প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ৪৫ হাজার ব্যারেল হিসেবে বছরে উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৯ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান ও প্রস্তাবিত মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে পৌনে ২৬ লাখ মেট্রিক টন।

বিপিসির ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদিত প্রকল্পটিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, বেসরকারি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ অন্য প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে সংস্থান করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে কি না, নাকি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। প্রকল্পে বিনিয়োগের সঠিক আর্থিক পরিমাণ জানাও সম্ভব হয়নি। উপরন্তু অতিগোপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুপারিশ করেছে বিপিসি। এ নিয়ে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট বেসরকারিতে ঝুঁকছে জ্বালানি খাত, একক নিয়ন্ত্রণ হারাবে বিপিসি শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আবেদন নাকচ

এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (পত্রসূত্র- ২৮.০০.০০০০.০০০.০২৬.৯৯.০০৬৫.২০.৪৪৯) স্মারকমূলে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচ করে। নাকচের বিষয়টি বিপিসিকেও চিঠি মারফত অবগত করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রাখে বিপিসি।

সম্প্রতি রিফাইনারিটি পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়। গত সপ্তাহে জাগো নিউজের হাতে আসা বেশকিছু নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি নতুন রিফাইনারি নির্মাণ অব্যাহত রাখে।

২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়- ‘ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে ইতিপূর্বে বাস্তবায়িত এসপিএম প্রকল্পের পুরোপুরি ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে সরকারিভাবে জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়বে।

সে পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি (এসপি পিএলসি) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন মর্মে পরিচালকমণ্ডলী একমত পোষণ করেন।’

কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়- ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি গত ২৫/০৯/২০২৪ তারিখে জাখসবি-তে পাঠানো পত্রের জবাবে মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ ২৮.০০.০০০০.০০০.০২৬.৯৯.০০৬৫.২০.৪৪৯ স্মারকমূলে উক্ত কোম্পানির প্রস্তাব নাকচ করা হয়। জাখসবি কর্তৃক বর্ণিত পত্রের মাধ্যমে বলা হয়- ‘বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের জন্য কনডেনসেট নীতিমালা, ২০১৪’ এর অনুচ্ছেদ-৮(ঘ) অনুযায়ী সংগৃহীত/আমদানি করা কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রাপ্ত পেট্রোল/অকটেন/ডিজেল/কেরোসিন/এলপিজি কোনোভাবেই সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে বাজারজাত করা যাবে না।’

‘এমতাবস্থায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ এর আওতায় এ বিভাগ থেকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে সূত্রোক্ত আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।’

বোর্ড সভায় উপস্থিত দুই কর্মকর্তা যা বলছেন

ওইদিনের সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের নতুন রিফাইনারি নির্মাণ, অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য করা আবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নাকচ করে দেয়।’

বিষয়টি বিপিসির গত ৮ ফেব্রুয়ারির ১০১৭তম পর্ষদ সভায় আলোচনা হয় জানিয়ে বলেন, ‘তখন এসপিএলের আবেদনটি পুনরায় পর্যালোচনার কথা উঠলে পরিচালক (অর্থ) মহোদয় বেসরকারি ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। তাতে এসপিএলের প্রস্তাব অধিকতর যাচাইয়ের কথা ওঠে। তবে পরবর্তীসময়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

এর আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক ও বিপিসির বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘রিফাইনারির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসির কোনো অনুমতিপত্র তাদের (এসপিএল) হাতে নেই। অনুমতি ছাড়া তারা কোনো প্ল্যান্ট বসাতে পারবেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির অন্য দুই সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা যখন এসপিএল পরিদর্শন করি, তখন তারা কিছু জমিতে মাটি ভরাট করছিল। মাটি ভরাটের ক্ষেত্রে তো বিপিসির কোনো করণীয় নেই। এখন কীভাবে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি ও সংযোজন করেছে সেটা তারাই বলতে পারবে। তাছাড়া তারা তো কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় পাইপলাইন সংযোগও তৈরি করেছে। যদিও এখনো এটির ব্যবহার শুরু হয়নি। পাইপলাইন তৈরির আবেদনও ২০২০-২০২২ সালের।’

গত সপ্তাহে বিষয়টি জানতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রণব কুমার সাহা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা হায়দারের ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে ১৬ আগস্ট তাদের মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং দাপ্তরিক মেইলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বক্তব্য চাওয়া হলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে টিকে গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন অ্যান্ড করপোরেট) হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। রিফাইনারি সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্টটি দেখভাল করেন সিইও প্রণব বাবু স্যার।’ প্রজেক্টে যোগাযোগের অন্য কারও নম্বর চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রণব স্যারের বাইরে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না।’

যা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা

অসাধু ব্যবসায়ীদের ওপর যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই, এভাবে যে তাদের অবৈধভাবে উত্থান হয়েছে, অবৈধভাবে যে সম্প্রসারণ ঘটেছে, এটা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিষয়টির প্রতিকার জরুরি। এসব ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করে বিপিসির আওতায় আনা উচিত। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম

পরে এ বিষয়ে কথা হলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. এম শামসুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের ওপর যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই, এভাবে যে তাদের অবৈধভাবে উত্থান হয়েছে, অবৈধভাবে যে সম্প্রসারণ ঘটেছে, এটা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিষয়টির প্রতিকার জরুরি। এসব ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করে বিপিসির আওতায় আনা উচিত। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।’

মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়া রিফাইনারি প্রকল্পের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানির ঋণপত্র কীভাবে ব্যাংকগুলো খুলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাও আইনি পদক্ষেপের ভেতরে পড়বে। অবৈধ ব্যবসা প্রবর্তন ও সম্প্রসারণে এরা সবাই জড়িত। এখানে স্বার্থের সংঘাত জড়িত। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।’

মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েকধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা।-বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক আবু হানিফ 

বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েকধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা।’

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের সিআরইউ বাদে নতুন রিফাইনারির প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।-যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের সিআরইউ বাদে নতুন রিফাইনারির প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’

অনুমোদন না নিয়ে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ সংযোজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে, ‘বিষয়টি মনিটরিং করা তো বিপিসির দায়িত্ব। নিশ্চয়ই বিপিসির কর্মকর্তাদের কোনো দূরভিসন্ধি থাকতে পারে।’

এ বিষয়ে ২০ আগস্ট কথা হয় বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) ও সরকারের যুগ্মসচিব এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের সঙ্গে। গত ১২ মার্চ তিনি বিপিসিতে যোগদান করেন। কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসপিএলের রিফাইনারির আবেদনটি আমি বিপিসিতে যোগদানের আগের ঘটনা। তারা যে রিফাইনারি বানাচ্ছে সেটা আমি জানি না। এটির বিষয়ে জানেন জিএম অপারেশন্স জাহিদ। আমি ওনাকে বলে দিচ্ছি, ওনার সঙ্গে কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিষয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করছি। বিষয়টি আমরা পরীক্ষা করে দেখবো।’

পরে বিপিসির বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’