Image description

আসাদ সরকারের পতনের পর পালিয়ে বাঁচা সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ছিল প্রতিবেশী লেবানন। কিন্তু সেই নিরাপত্তার দেয়ালে এবার প্রথম বড় ফাটল দেখা গেল। আসাদ আমলের সাবেক মেজর জেনারেল আদেল ঈসাকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে সিরিয়ার নতুন সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে লেবানন। বুধবারের এই হস্তান্তরকে সাবেক আসাদ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দামেস্কের বিচারের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম লেবানন আসাদ আমলের কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তর করল।

মেজর জেনারেল আদেল ঈসা সিরীয় সেনাবাহিনীর ১৭তম ডিভিশনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। পরে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় দেইর ইজোর প্রদেশে স্থলবাহিনীর দায়িত্বও পালন করেন। চলতি মাসের শুরুতে লেবাননের কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করার পর সিরিয়ার হেফাজতে হস্তান্তর করে।

 

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, গুরুতর অপরাধ সংঘটনে সহায়তা, একাধিক মানুষকে হত্যা, নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো এবং গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মামলাটি এখন দামেস্কের একজন রেফারাল বিচারকের কাছে রয়েছে। এরপর তা বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হবে।

ঈসা লেবাননে আটক থাকার সময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন বলে তার গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের বিষয়ে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন।

এই হস্তান্তর এমন আরও বহু সাবেক সিরীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে নজির তৈরি করতে পারে। এসব কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার হাতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

 

৬৭ বছর বয়সী ঈসাকে ৮ আগস্ট আটক করা হয়। কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করতে তিনি বৈরুতে সিরীয় দূতাবাসে গেলে দূতাবাসের কর্মকর্তারা লেবাননের প্রসিকিউটর কার্যালয়কে জানান যে সিরিয়ায় তাকে খোঁজা হচ্ছে। এরপর লেবাননের তদন্তকারীরা তাকে হেফাজতে নেন বলে ওই ব্যক্তিরা জানান।

আসাদ সরকারের পতনের পর লেবাননে আশ্রয় নেওয়া সাবেক আসাদপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দামেস্কের পক্ষ থেকে বৈরুতের ওপর কয়েক মাস ধরে চাপ দেওয়ার পর এই হস্তান্তর করা হলো।

সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ দুই শতাধিক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একটি তালিকা লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিয়েছিল। তাদের অবস্থান, আইনি অবস্থান এবং সম্ভাব্য বিচার বা প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা করতে ডিসেম্বরে বৈরুত সফরও করেছিলেন সিরিয়ার এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ আসাদ আমলে নির্যাতন ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক কর্মকর্তাদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করবে কি না এবং আসামিরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।

চলতি মাসে দামেস্কের একটি আদালত রাশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া আসাদকে হত্যা, নির্বিচারে আটক ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

ঈসাকে হস্তান্তরের ঘটনা দামেস্কের কাছে চাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে লেবানন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তার একটি প্রাথমিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। কয়েক দশক ধরে সিরিয়া তার ছোট প্রতিবেশী লেবাননের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব বিস্তার করেছিল।