কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ মিছিলে হামলার অভিযোগে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার ৮ নম্বর আমলি আদালতে মামলা দুটি করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ওরফে মুন্না (৩২) ও যুবনেতা এরফান উদ্দিন (৩৮)। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলা দুটি আমলে নিয়ে নাঙ্গলকোট থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন টিপু, নুর আহম্মদ, কামরুজ্জামান, অহিদুল ইসলাম, ইউসুফ হোসেন, আবির হোসেন, আমিনুল ইসলাম, খলিল, জামাল, সুজন আহম্মেদ এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহমান সুজন।
মামলার বাদী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসামিরা কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে মামলার বাদীরা একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বলয়ের রাজনীতিতে সক্রিয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১২ আগস্ট বিকেলে এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এতে বাধা দিতে গিয়ে ঢালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। এর জবাবে সংসদ সদস্যও পাল্টা পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের ঢালুয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় ছাত্রদল নেতা মাহফুজ, আমির হামজা মুন্না ও সহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিছিলের শেষভাগে যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন টিপু ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহমান সুজনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান, আমির হামজা মুন্না, সহিদ ও এরফানসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
গুরুতর আহত আমির হামজা মুন্নাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তার ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, আদালত দুটি মামলাই গ্রহণ করে নাঙ্গলকোট থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, মামলার আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।