Image description

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে আসায় সংকটে পড়েছেন গার্মেন্টস ও ডাইং কারখানার মালিকেরা। এর প্রভাবে ফেব্রিক্স সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় থমকে গেছে পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে এহসান শামীম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ডাইং কারখানা থেকে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্স পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে।

নিজের কারখানার পরিস্থিতি তুলে ধরে ফজলে এহসান বলেন, ডাইং থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ফেব্রিক্স না পাওয়ায় টানা সাত দিন গার্মেন্টস বন্ধ রাখতে হয়েছে। বুধবার কারখানা খোলার পরও বৃহস্পতিবার ফের বন্ধ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শনিবার কারখানা খুলে যদি পরের দুই-তিন দিনের মধ্যে ডাইং থেকে ফেব্রিক্স পাওয়া যায়, তাহলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। কিন্তু আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংকট কাটার কোনো লক্ষণ দেখছেন না তিনি।

ফজলে এহসান শামীমের দাবি, ডাইং থেকে ফেব্রিক্স সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে প্রায় শতাধিক গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, ডাইং প্রক্রিয়ায় প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ার মাঝখানে আধা ঘণ্টার জন্যও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে পুরো কাপড় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নাসির উদ্দিন বলেন, গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নামার খবর পাচ্ছি। এতে ডাইং ইউনিটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে ৩০০টির বেশি ডাইং কারখানা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব কারখানা একসঙ্গে পুরোপুরি বন্ধ না থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। কোথাও কয়েক ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদন চলছে, আবার মাঝপথে সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদনও থেমে যাচ্ছে। অনেক কারখানায় বাধ্য হয়ে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে তেলের বয়লার ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাসে যেখানে ১০ টাকা খরচ হয়, সেখানে তেলের বয়লারে খরচ প্রায় ৩০ টাকা। জেনারেটর ব্যবহারে খরচ বাড়ে তিন থেকে চার গুণ।

তিনি জানান, গ্যাস সংকটে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য তাঁদের কাছে আসেনি। তবে অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে এবং ওভারটাইম কমানো বা বন্ধ করা হয়েছে।

নাসির উদ্দিন বলেন, এই সংকট কত দিন চলবে তা নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইনও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই তাঁরা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন আশায় বসে আছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রায় এক হাজার গার্মেন্টস কারখানার অধিকাংশই গ্যাসনির্ভর। গ্যাস না থাকায় ডাইং কারখানাগুলো বন্ধ থাকছে এবং প্রভাব পড়ছে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায়।

তাঁর দাবি, গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটিতে রাখা হয়েছে। অনেক কারখানায় কাজও বন্ধ রয়েছে।

মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল আরও জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন সংকটে নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কিছু কারখানার উৎপাদন ধীর হওয়ার তথ্য থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার খবর তাঁদের কাছে নেই।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব সম্পর্কে ২২টি কারখানার তথ্য তাঁদের কাছে আছে। এতে কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়েও পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে কারখানায় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে স্বাভাবিক নিয়মে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।