Image description

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কৃষি ও সুপেয় পানির প্রধান উৎসসমূহ একের পর দখল করে নিচ্ছে চরমপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। জর্ডান উপত্যকার ঐতিহাসিক ফাসাইল গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার প্রাকৃতিক ঝরনা ও সেচ ব্যবস্থার গতিপথ কৃত্রিমভাবে ঘুরিয়ে দিয়ে বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের সুইমিং পুলে রূপান্তর করা হচ্ছে।

 

ফিলিস্তিনিদের মতে, তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ ও জীবিকা ধ্বংস করতে ইসরায়েল সরকার ও বসতি স্থাপনকারীরা এক নীরব ‘জলযুদ্ধ’ চালাচ্ছে।

 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেবল চলতি বছরই পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদে অন্তত ১৬০টি পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা।

 

ফাসাইল গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক সাদ নেমার জানান, গত জুন মাসে বসতি স্থাপনকারীরা তার বেগুন, জুকিনি ও তরমুজ খেতের প্রধান সেচ পাইপলাইন দখল করে প্রাচীন একটি জলাশয়ে পানি প্রবাহিত করে দেয়। পরবর্তীতে তারা সেটিকে ইসরায়েলি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে।

ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই কথিত ‘হেরোডের পুল’ সংস্কারে ৩ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার) সরকারি অনুদান বরাদ্দ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এসব বসতি স্থাপন অবৈধ হলেও ইসরায়েলি প্রশাসনের ছায়াতলে উত্তর জর্ডান উপত্যকার প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাকৃতিক ঝরনার নিয়ন্ত্রণ এখন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে।

 

পানির অভাবে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার খেতখামার ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অন্যদিকে, কুসরা ও ওয়াদি আল-বাধানের মতো তুলনামূলক শান্ত এলাকাগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ ও হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পানি বিভাগের কর্মকর্তা আদেল ইয়াসিন এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের জীবন-জীবিকা অচল করে নিঃশব্দে উচ্ছেদ করার এক পরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।