Image description

ভোরে কারখানায় যেতে হয়, দিনভর কাজ করতে হয়। কিন্তু মাস শেষে হাতে আসে না বেতন। এরই মধ্যে গত ১৩ আগস্ট থেকে বন্ধ হয়ে গেছে খাবার সরবরাহ। মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের একটি প্লাইউড কারখানায় এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ২৫০ অভিবাসী শ্রমিক।

মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডির শ্রমিকদের অভিযোগ, তিন মাসের বেশি সময় ধরে তাদের মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। বেতন না পাওয়ার পাশাপাশি খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা।

কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ১২৬ জন বাংলাদেশি। অন্যরা মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিক। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মস্থলে সংকটের পাশাপাশি দেশে থাকা শ্রমিকদের পরিবারেও বাড়ছে আর্থিক চাপ।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় আসতে অনেকের ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এই অর্থের জোগান দিতে কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ জমি বন্ধক রেখেছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করেছেন।

বিদেশে গিয়ে নিয়মিত বেতন পাওয়ার পর সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি দেশে থাকা পরিবারের খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তিন মাসের বেশি সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় এখন সেই হিসাব উল্টে গেছে।

এক শ্রমিক বললেন, ‘বিদেশে এসেছিলাম পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে। এখন নিজের খাবারের নিশ্চয়তাই নেই।’

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়োগের সময় তাদের কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেককে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।

তাদের দাবি, দৈনিক মজুরি ছিল প্রায় ৬৫ রিঙ্গিত। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও সবসময় দেওয়া হতো না।

কয়েকজন শ্রমিক আরও অভিযোগ করেছেন, গত তিন বছর ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং নিয়োগচুক্তির শর্তও লঙ্ঘন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলা এক বাংলাদেশি কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। সহকর্মীদের কয়েকজনের ধারণা, কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাকে কোথাও নিয়ে গেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওই শ্রমিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার সন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বকেয়া মজুরি পরিশোধ, খাবার সরবরাহ পুনরায় চালু, কর্মপরিবেশ ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং নিখোঁজ কর্মীর সন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যাওয়া এসব শ্রমিকের বর্তমান পরিস্থিতি আবারও সামনে এনেছে অভিবাসন ব্যয়, মজুরি সুরক্ষা, শ্রম অধিকার এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি।