Image description

ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালাতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযানকালে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাবু নামের এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তারা একযোগে বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকার সিমেক, বালিপাড়া বালুর মোড় এলাকার মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি এলাকায় এ অভিযান চালান।

অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড় এলাকার একটি বালু ঘাটে উপস্থিত হয়। স্থানটিতে জমা করা বালুর স্তূপ ত্রিশালের সীমান্তে ছিল এবং বালুবাহী ট্রাকগুলোও ত্রিশালের রাস্তা ব্যবহার করছিল। তবে ঘাটে দায়িত্বরত কর্মচারীরা দাবি করেন, ঘাটটি পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানার অন্তর্ভুক্ত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়- ইউএনও, এসি (ল্যান্ড), র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা উক্ত বালুমহালের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে বৈধ ইজারার কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে জোবায়ের হোসেন নামের এক কর্মচারী জানান যে কাগজপত্র সেখানে নেই। এরপর তিনি ইউএনও-কে নিজের পরিচয় দিতে বলেন। আরাফাত সিদ্দিকী তার পরিচয় জানিয়ে সংযত হয়ে কথা বলতে বললে, কর্মচারী জোবায়ের মন্তব্য করেন যে- এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন এবং অনেকেই সেখানে আসেন। এতে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে ‌‘তুই আমাকে চিনিস না’ বলে তাকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং বেত দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন।

উক্ত ঘাটের বৈধ ইজারাদার দাবিদার ‘সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক শামসুজ্জামান মাসুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজেই সব দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুরো ঘটনা সম্পর্কে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, ওই বালুমহালের কর্মচারীরা রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে চরম বেয়াদবি করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াহাব আকন্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকারের নাম ভাঙিয়ে তারা সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চালিয়ে আসছিল। 

তিনি আরও দাবি করেন, প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজটি থেকে মূল ঘটনার অনেক অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে ময়মনসিংহ শহর থেকে বেশ কিছু মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জমা হয় এবং তার উদ্দেশ্যে উশৃঙ্খল আচরণ করে।