‘বাড়িতে কি সবাই পুড়ে মরছে, ফোন ধরিস না কেন’—সৌদি আরবের কর্মস্থলে অগ্নিকাণ্ডের শিখা যখন চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছিল, তখন স্বজনদের উদ্দেশে পাঠানো এটিই ছিল প্রবাসী মোহনের শেষ বার্তা। আর সেই ফোন রিসিভ করতে না পারার চরম অপরাধবোধে এখন বুক চাপড়ে কাঁদছেন ছোট বোন আদরী। ওই এক আগুনেই কেড়ে নিয়েছে দুই সহোদরসহ নওগাঁর আত্রাইয়ের ১২টি তাজা প্রাণ; যা পুরো জেলাকে এক শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
নিহত মোহন আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের বাসিন্দা। তার ছোট ভাই সুমনও সৌদি আরবে তার সঙ্গে কাজ করতেন।
অগ্নিকাণ্ডের কিছুক্ষণ আগে মোহন তার বোন আদরীর মোবাইল ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। ওই বার্তায় মোহনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাড়িতে কি সবাই পুড়ে মরছে, কেউ ফোন ধরিস না কেন?’ এরপর আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘এরপর আর ফোন দিস, কোনো দিন ধরব না।’
ভাইয়ের এই কথাগুলোই যে তার জীবনের শেষ বার্তা হয়ে থাকবে, তা বুঝতে পারেননি স্বজনরা। মৃত্যুর আগে ভাইয়ের ফোন ধরতে না পারার আক্ষেপে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন আদরী। একই ঘটনায় তিনি দুই সহোদর ভাইকে হারিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদরী জানান, ভাইয়ের শেষ সময়ে তার সঙ্গে কথা বলতে না পারার আফসোস তাকে সারাজীবন কষ্ট দেবে। শেষবারের মতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগটুকুও তিনি পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে একটি কর্মস্থলে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
এদিকে নিহতদের মরদেহ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে।