নিয়ম হলো, এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) পদে পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করবে ভূমি মন্ত্রণালয়ে। ভূমি মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে মাঠ পর্যায়ে সহকারী কমিশনার, ভূমি পদে পদায়ন করবে। অতীতে বরাবর এ নিয়মেই মাঠ প্রশাসনের ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন একটি পরিপত্র জারির মাধ্যমে মহানগর এলাকাগুলোর এসি ল্যান্ড পদায়নের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। যা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অসন্তোষ চলছিল। সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে যে, ভূমি মন্ত্রণালয় নিজেদের জারি করা পরিপত্রের সীমাও অনুসরণ করছে না। পরিপত্রে শুধুমাত্র মহানগর এলাকাগুলোর কথা বলা থাকলেও এর বাইরের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও সহকারী কমিশনার, ভূমি পদে সরাসরি পদায়ন করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এতে মাঠ প্রশাসনের ভূমি ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজগুলো তদারকি বা পরিচালনা করা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়গুলোর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছে। এতে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তারা উৎসাহিত হচ্ছেন।
নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ মুহূর্তে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘নজিরবিহীন’ ও ‘বিতর্কিত’ পরিপত্র
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন বিএনপি সরকার গঠিত হয়। ওইদিন বিকেলে নতুন সরকারের শপথ হলেও দপ্তর বণ্টন হয় রাতে। অর্থাৎ ওইদিন অফিস আওয়ার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ছিল। কিন্তু মেয়াদ থাকলেও আদতে বলা যায়, সরকার পরিচালনার কাজে ওই দিন তাদের কোনো ভূমিকাই ছিল না। অথচ দেখা যাচ্ছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি অত্যন্ত ‘বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর’ পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রটির বিষয়বস্তুতে এমন কিছু নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনার সাধারণ রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। জারিকৃত এই পরিপত্রে মহানগর এলাকাগুলোতে সহকারী কমিশনার, ভূমি পদে পদায়নের ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের হাত থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ধরনের নিয়ম বা পরিপত্র অতীতে কখনো ছিল না। মহানগরসহ সারাদেশের সহকারী কমিশনার, ভূমি পদগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারদের অধীন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকেই সহকারী কমিশনার, ভূমি পদে পদায়ন হয়ে আসছে বরাবর।
১৭ ফেব্রুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাজস্ব ব্যবস্থাপনার অধীন মাঠ পর্যায়ে উপজেলা ভূমি অফিস/মেট্রো থানা ভূমি অফিস/ রাজস্ব সার্কেলে ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সরকার নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে:
(ক) মহানগর রাজস্ব সার্কেল/মেট্রো থানা ভূমি অফিস ব্যতীত অন্যান্য উপজেলা ভূমি অফিসের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদারকী ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারগণ সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণের বদলি/পদায়ন করবেন;
(খ) বিভাগীয় কমিশনারগণ কর্তৃক বদলি/ পদায়নযোগ্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের আন্ত:বিভাগীয় বদলি/পদায়নসহ দেশের সকল মহানগর রাজস্ব সার্কেল/মেট্রো থানা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র বদলি/পদায়ন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্যবস্থাপিত হবে;
(গ) যে সকল উপজেলা ভূমি অফিসের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকার আংশিক মহানগরীর অন্তর্ভুক্ত থাকবে; সে সকল উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র পদায়ন ও বদলি ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্যবস্থাপিত হবে;
(ঘ) জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হল এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
নাটের গুরু সৎ দাবিদার ‘ভূমিসচিব’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মহানগর এলাকার সহকারী কমিশনার, ভূমি পদগুলোয় বদলি-পদায়নের ক্ষমতা ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া বা এ সংক্রান্ত কোনো পরিপত্র অতীতে কখনো জারি হয়নি। যদিও পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ এই আদেশ জারি করা হয়েছে, আদতে জনস্বার্থে নয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি নিজেকে বরাবর একজন সৎ কর্মকর্তা বলেই দাবি করে থাকেন- এই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই মূলতঃ পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, “সরকার নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে”। কিন্তু আদতে পরিপত্রটি জারির সময় কোনো সরকারেরই কার্যকারিতা ছিল না। নতুন বিএনপি সরকার তখন পর্যন্ত দায়িত্ব বুঝে নেয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে কে আসছেন তা ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও ওইদিন অফিসে আসেননি, নতুন কোনো কার্যক্রমও তারা গ্রহণ করেননি। এ ধরনের এখতিয়ারও তাদের ছিল না। সরকারের কার্যকারিতা না থাকলেও প্রশাসনই ওই সময় ছিল সবকিছু। নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ট্রানজিশন পিরিয়ডের ওই সময়টিকেই বেছে নেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, যিনি নিজেকে বরাবরই একজন সৎ কর্মকর্তা বলে দাবি করে থাকেন।
সাধারণত: মহানগর এলাকার এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) পদগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে পরিচিত- এটা সবাই জানেন। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এই পদগুলোতে পদায়ন পাওয়ার জন্য নানা রকমের দেনদরবার করে থাকেন। বড় অংকের ঘুষ লেনদেন এবং অনেক সময় পদগুলো নিলামে উঠতেও দেখা যায়। ভূমি সচিব সালেহ আহমেদের এ পদগুলো হাতে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক আগের। কিন্তু যেহেতু এ নিয়ে মাঠ প্রশাসনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশংকা রয়েছে, অতীতে এ রকমের রেওয়াজও নেই- তাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্ভব হয়ে উঠেনি। এসব কারণে নতুন বিএনপি সরকার গঠনের এ ট্রানজিশন পিরিয়ডটাকে উদ্দেশ্য হাসিলের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন সৎ দাবিদার ভূমি সচিব সালেহ আহমেদ।
দেখা যাচ্ছে, পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে ১৭.০২.২০২৬ তারিখে। পরিপত্রের নিচে বিতরণের তালিকায় ৭ নম্বরে লেখা আছে, “উপদেষ্টা মহোদয়ের একান্ত সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা (মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য)।” কিন্তু ১৭.০২.২০২৬ তারিখে জারিকৃত পরিপত্রটি “উপদেষ্টা মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য” বিতরণ করা হলেও আদতে ওইদিন উপদেষ্টার মেয়াদ বা কার্যকাল ছিল না। এর আগের দিন, ১৬.০২.২০২৬ তারিখেই উপদেষ্টার মেয়াদ বা কার্যকাল শেষ হয়ে গেছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের অনার বোর্ডে তখনকার উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের মেয়াদ উল্লেখ আছে- ২০.০১.২০২৫ থেকে ১৬.০২.২০২৬ পর্যন্ত। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, অন্যান্য নথির সঙ্গে পেছনের তারিখ দিয়ে এই নথিটিও অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছেন সচিব সালেহ আহমেদ। আলী ইমাম মজুমদারদের ক্ষমতা যেহেতু তখন শেষ হয়ে গেছে, তাই সচিবের প্রভাবই তখন তাকে মেনে নিতে হয়েছে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও পেছনের তারিখে স্বাক্ষর করতে হয়েছে উপদেষ্টাকে।
নিজেদের পরিপত্রও মানছে না ভূমি মন্ত্রণালয়!
সর্বশেষ খবর হলো, নিজেদের জারি করা সেই আলোচিত পরিপত্রের নির্দেশনাও মানছে না ভূমি মন্ত্রণালয়। নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কর্মকর্তা পদায়ন করছে। ইতিমধ্যেই সোনারগাঁও, কালিগঞ্জ, গাজীপুর সদর উপজেলা এমনকি সর্বশেষ সাভার উপজেলায়ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখের ১৬৭ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনে মোট ৮টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়ন দেওয়া হয়। তারমধ্যে তিনটিই ছিল উপজেলা, অর্থাৎ মহানগরের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর সালথা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকারকে পদায়ন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে। গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদারকে গাজীপুর কালীগঞ্জের উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সুনামগঞ্জ দিরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল হাসান সৌরভকে গাজীপুর সদরের উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়ন দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনে। যদিও এসব উপজেলা মহানগরের অন্তর্ভুক্ত নয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ীই এসব পদে মন্ত্রণালয় সরাসরি পদায়ন করতে পারে না। ২৮ জুলাইয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে এছাড়াও গুলশান রাজস্ব সার্কেল, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এবং সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে নিয়োগ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এই ৮টি নিয়োগের প্রতিটিতেই বড় অংকের লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের পদটি কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে চাউর আছে।
সরকারের শুরুতে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভূমি মন্ত্রীর দায়িত্বে মো. মিজানুর রহমান মিনু থাকলেও তিনি নিজেকে কোনো রকমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াননি এখন পর্যন্ত। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদই নানা রকমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। জানা গেছে, দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের কারণে বিতর্কিত হয়েছেন এমন কর্মকর্তাদেরও সহকারী কমিশনার (ভুমি)-এর আর্কষণীয় পদে পদায়ন দেওয়া হচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে। যেমন, মাত্র কিছুদিন আগে আল-আমিন হালদারকে অনিয়মের কারণে ফরিদপুর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় পদায়ন দেওয়া হয়েছিল। অথচ ভূমি মন্ত্রণালয় তাকে এখন উল্টো আকর্ষণীয় পদায়নে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাইজ পোস্টিং দিয়েছে। যদিও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ীই উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন দেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের নেই। বর্তমানে রাজধানীর মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে আছেন বাবলী শবনম। গত ১৩ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা এর এক প্রজ্ঞাপনে তাকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে এখানে পদায়ন করা হয়। অথচ তিনি কুলিয়ারচরে পদায়নে থাকাকালে সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে মারামারিসহ নানা রকমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
জানা গেছে, বরকত উল্লাহ বুলু নিজের পরিবারের এক নাতিকে সাভার অথবা দোহারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়নের জন্য সশরীরে গিয়ে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছিলেন। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে তিনি সুপারিশ করেন। মন্ত্রীর মাধ্যমে তদবির করার পরও নাতিকে পদায়নের ব্যবস্থা করতে পারেননি বরকত উল্লাহ বুলু। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তদবির করা হয় তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নের জন্য। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মন্ত্রীর সুপারিশ নাকচ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরকত উল্লাহ বুলুর নাতির পদায়ন হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের সুপারিশ এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ৩ আগস্ট প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে সাভার উপজেলার ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে রাহাত খানের পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তিনি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যস্ত ছিলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের গত ১৭ ফেব্রুয়ারির পরিপত্র অনুযায়ী সাভার উপজেলা ভূমি অফিসে পদায়ন হওয়ার কথা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে। পরিপত্রের নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ই এক্ষেত্রে লঙ্ঘন করেছে।
কুমিল্লার বাহ্মণপাড়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়নে আছেন তারেক রহমান। তিনি সেখান থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পদায়ন পাওয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সিরাজদিখানে পদায়নের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন, এ তথ্য জানিয়েছেন তাঁর এক ব্যাচমেটকে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে অনিয়ম-দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। কিন্তু এইসব এসি ল্যান্ডের নিয়োগ-বদলির ক্ষমতায় ভূমি মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করায় এদের ওপর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না। এদের অনিয়ম-দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও তেমন একটা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া এসবকে কেন্দ্র করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের এক রকমের দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এমনকি জেলা প্রশাসকরাও অসন্তুষ্ট হচ্ছেন। আশংকা করা হচ্ছে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ধস নামার। একাধিক বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ বিষয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কমিশনার পদে কর্মরত একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, বদলি-পদায়ন যদি সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে করা হয় তাহলে বিভাগীয় কমিশনার পদে কাজ করা সম্ভব হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতার ‘অপব্যবহার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
শীর্ষনিউজ