যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অরাজকতার দিকে এগোচ্ছে, এমন বিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি দেশ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বালাজি শ্রীনিবাসন। কিন্তু একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে থমকে গেছে। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকারের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে তার আলোচিত প্রকল্প ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা ৪৬ বছর বয়সী শ্রীনিবাসন প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মালয়েশিয়ার দক্ষিণ উপকূলে চীনের তৈরি ১০০ বিলিয়ন ডলারের আংশিক পরিত্যক্ত ফরেস্ট সিটি’র একটি হোটেলে গড়ে তোলেন ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’। এখানে জিম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিজের পছন্দের ভাবাদর্শে নতুন সমাজ গড়ার পাঠ দেওয়া হতো। কিন্তু সেখানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্যাঁতসেঁতে ঘর, নাইটলাইফের অভাব এবং নারীর কম উপস্থিতির অভিযোগ তোলেন। যদিও বালাজি দাবি করেন, তার এই উদ্যোগ শুধু ‘টেক ব্রো’দের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য।
প্রকৃত ঝামেলা শুরু হয় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে। ইসরায়েলি নাগরিকদের রাখা হয়েছে, এমন এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জেরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামে। মালয়েশিয়া ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তদন্তে কোনও অনিয়ম না পাওয়া গেলেও, লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় স্থানীয় প্রশাসন প্রজেক্টটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে বন্ধের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ভিডিও প্রকাশ করে কাজাখস্তানে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা দেন শ্রীনিবাসন।
শ্রীনিবাসন মনে করেন, ইন্টারনেট পূর্ববর্তী যুগের দেশগুলোর স্থায়িত্ব কমে আসছে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে নতুন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে একটি বাস্তব দেশের আইনের মুখোমুখি হয়ে আপাতত মালয়েশিয়ার অধ্যায় শেষ করতে হলো এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তাকে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল