Image description

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণাকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। নতুন গঠিত এই কমিটিতে মুহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক এবং ইকবাল হোসেইন সাম্য শাহকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুখপাত্র ইকবাল হোসেইন সাম্য শাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যাপ্টেন রিদওয়ান সিকদার।

 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তারুণ্য। দেশের মানুষ এখনো তরুণদের দিকেই আশার চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর দেশের রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজনীতিতে এখনো বিদেশি শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বিদ্যমান। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ক্ষমতা উপভোগের বিষয় নয় উল্লেখ করে গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের সেবা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যম।’

রাজনীতি থেকে বিদ্বেষ ও গালাগাল দূর করার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নেতিবাচক রাজনীতির চর্চা তরুণদের বিপথগামী করছে।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মকে তরুণদের আলোর পথ দেখিয়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’

 

এ ছাড়া জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। আর ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যা প্রতিহত করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসিন রশিদও সংহতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সর্দার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে কার্যকর বিরোধী দলের শূন্যতার কারণে আমাদের এই রাজনৈতিক উদ্যোগ। সরকারের অন্যায়, অনিয়ম ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনজীবন আজ অতিষ্ঠ। এই বিষয়গুলোতে জনগণের পক্ষে জনমত গঠন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সংগঠনের সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে অভ্যুত্থানের অর্জনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।’

৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে ৩৭ সদস্যের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে সম্পাদক পদে মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র পদে ইকবাল হোসাইন (সাম্য শাহ) দায়িত্ব পেয়েছেন।

কমিটিতে সংগঠক হিসেবে রয়েছে ২১ জন : মোশাররফ হোসেন, এম এ আলিফ, শাহ আলম, আলিয়া ছোঁয়া, মেহেদী হাসান বাবু, ইমতিয়াজ হোসাইন লিটন, সেলিম হোসেন, আমান উল্ল্যাহ্ ফারাবী, জহিরুল ইসলাম শাকিল, নাঈম হামিদ পৃথু, নাজমুস সাকিব, শাওন রহমান, শফিকুর রহমান মোল্লা, তামিম আহম্মেদ তুরাগ, এইচ এম নাইমুল, জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, আরিফুল ইসলাম, ইয়াসিন হাসান, কাইফা জামান, সুমাইয়া নাসরিন আশা এবং ইয়ামিন হাসান রন।

এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন ১৪ জন : সর্দার আমিরুল ইসলাম, মারিয়া রিমা, ব্যারিস্টার রিজভী, ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার, সিদ্দিকুর রহমান, সাব্বির আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, প্রাচ্য মোহাম্মদ, শরীফ আকন্দ, শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, আহম্মেদ রন, রবিউল ইসলাম রবি, মাহমুদ হাসান লাবলু এবং অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা আখতার।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ, সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের প্রধান সংগঠক শামীম রেজা, জনজোট পার্টির সভাপতি মোজাম্মেল মিয়াজিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।