Image description

দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো গরুর কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যানজট সৃষ্টি, বাজারের সবজি নষ্ট, বাসাবাড়ির ফুল-ফলের গাছের ক্ষতিসহ নানা অভিযোগের পর অবশেষে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।

আজ সোমবার শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনটি গরু আটক করে পৌরসভায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মালিকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া তিনটি গরুর মধ্যে দুটির মালিক ভুরভুরিয়া চা বাগানের দুরপতি রবিদাস ও মানিক রবিদাস। অন্য গরুটির মালিক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গরু প্রতিদিনই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন সবজি নষ্ট হতো। এ ছাড়া বাসাবাড়ির ফুল, ফল ও অন্যান্য গাছপালারও ক্ষতি করত। ডাস্টবিনে ঢুকে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছিল।

গরুর মালিক দুরপতি রবিদাস বললেন, আমরা গরু চা বাগানেই চড়াই। কীভাবে সেগুলো শহরে চলে এসেছে, বুঝতে পারিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটতে দেব না।

সাগরদীঘি রোডের বাসিন্দা আশু ঋষি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরে অবাধে ঘুরে বেড়ানো গরুর কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে ছিল। পৌরসভার এই উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেছেন, অভিযানের আগে মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গরুর মালিকদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও তারা ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনস্বার্থে গরুগুলো আটক করা হয়। মালিকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়ার পর গরু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বললেন, শহরে অবাধে গরু চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আটক করা হয়। পরে মালিকদের শনাক্ত করে লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর গরু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।