চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব।
পুলিশের ভাষ্য, গতকাল রবিবার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকা থেকে সবশেষ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন দিদার আলম (৩০) ও আফসার মিয়া (৩০)। দুজনের বাড়ি রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান গ্রামে।
মাসুদুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিদার ও আফসার— বলছে পুলিশ। যুবদল নেতা খুনের ভিডিও ফুটেজে দুজনকে অস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।
র্যাব এর আগে জানিয়েছিল, রায়হানসহ আসামিরা সবাই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এই বাহিনীর দুই মূল নিয়ন্ত্রকের আরেকজন মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ওরফে ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানালেন, দিদার ও আফসার সরাসরি যুবদল নেতা হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে আটটি মামলা আছে।
গত ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম উত্তরের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুলকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন তিনি। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে।
এ ঘটনায় গত ১৫ জুন মামলা করেন নিহত মাসুদুলের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন। মামলায় রায়হান আলমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়।