ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ছবিযুক্ত পুরোনো ব্যাংকনোট বৃহস্পতিবার থেকে আর বৈধ মুদ্রা নয় সিরিয়ায়। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা নোট বদলের প্রক্রিয়া শেষ করে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিনিময় কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে পুরোনো মুদ্রার ৮০ শতাংশ। গত রোববার ব্যাংক জানিয়ে দেয়, ৩১ জুলাই থেকে শেষ হবে পুরোনো নোটের বৈধতা এবং আর বাড়ানো হবে না সময়।
তবে এ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, নতুন কম মূল্যমানের নোটের সংকট এবং কালোবাজারে পুরোনো নোট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দামেস্কের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কিছু ব্যবসায়ী পুরোনো নোট নিতে অস্বীকৃতি জানালেও খুচরা হিসেবে আবার সেই নোটই ফেরত দিচ্ছিলেন।
সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে নোট বদলের কার্যক্রম । তবে নির্দিষ্ট শর্তে আগামী পাঁচ বছর সুযোগ থাকবে পুরোনো নোট প্রত্যাহারের। এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে অন্তত ১০০টি নোট জমা দিতে হবে।
নতুন মুদ্রা ব্যবস্থায় সিরীয় পাউন্ডের মূল্যমান থেকে দুটি শূন্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের ১০০ পাউন্ডের সমান হবে নতুন ১ পাউন্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো নোট তুলে নেওয়ায় সহজে বাজারে থাকা অর্থের পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সিরীয় পাউন্ডের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সীমিত হবে অবৈধ অর্থ বৈধ আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগও।
তবে সমালোচকদের মতে, পুরোনো নোট বদলের জন্য শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা এবং প্রতি আবেদনে ন্যূনতম ১০০টি নোট জমা দেওয়ার শর্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ভোগান্তি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের পরামর্শ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে এ সেবা চালু করলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।