Image description

দুর্নীতি, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গত ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে দেশটির কারাগারে বন্দি আছেন বেনজীর আহমেদ। তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দেশটির সরকার নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানায়, যেসব মামলায় বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল, সেগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে দুবাই পুলিশ। এ দফায় বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কিত আরও বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বিবিসি বাংলাকে জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ করেছে। সেগুলো শিগ্‌গিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

এদিকে, দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নথিপত্র ঠিকঠাক সরবরাহ করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো খুব একটা কঠিন হবে না।

 

কিন্তু আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ করে বেনজির আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরাতে ঠিক কতদিন লাগতে পারে?

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি দেশের মধ্যে অপরাধী হস্তান্তরের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু ভারত এবং থাইল্যান্ড ব্যতীত অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তি নেই। ফলে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে কোন প্রক্রিয়ায় ঢাকায় ফেরত আনা হবে, ঘুরেফিরে সে প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে।

 

আইনজীবীরা বলছেন, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। সেগুলো হলো- অপরাধের বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, দু-দেশের আইনের সামাঞ্জস্যতা, আদালতে তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলারা আফরিনের মতে, মূলত এ ৪টি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

 

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

 

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

অবসরের পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শুরু হলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান।