সাত সকালে বাড়ি থেকে বের হন ৭৮ বছর বয়সি শমসের আলী। তার গন্তব্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আখাউড়া উপজেলার খড়মপুরে। উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫ বছর আগের পাওয়া ১০০ টাকা ফেরত দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে কখনও পায়ে হেঁটে আবার কখনও গাড়িতে চড়ে পাওনাদারের বাড়িতে পৌঁছান বৃদ্ধ শমসের আলী। তার তাকে দেখে হতবাক খোদ পাওনাদার এম.এন.এইচ খাদেম দুলালও।
শুনতে অবাক মনে হলেও শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বৃদ্ধ শমসের আলী সদর উপজেলার মজলিশপুরের বাড়ি থেকে আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুড়ের বাসিন্দা আখাউড়া উপজেলার খড়মপুরে খাদেম ‘এয়ার সার্ভিসের’ স্বত্বাধিকারি এম.এন.এইচ খাদেম দুলালের বাড়িতে যান।
বৃদ্ধ শমসের আলী জানান, ১৫ বছর আগে তিনি বিদেশি লোক পাঠানো সংক্রান্ত লেনদেন করেন দুলাল খাদেমের সঙ্গে। এ সময় তিনি ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়াটা জরুরি বলে মনে করছিলেন। যে কারণে এতো বছর পরে হলেও টাকাটা ফেরত দিতে এসেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,
১ টাকা হোক আর ১০০ টাকাই হোক- কারো পাওনা শোধ করাটা অবশ্যই কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি। ঢাকায় বসবাসকারী দুলাল খাদেম মাঝে মাঝে শুক্রবার এলাকায় আসেন এই চিন্তা করে সকাল সকাল এসেছি।
পাওনাদার দুলাল খাদেম বলেন, অনেক সময় লেনদেন করতে গিয়ে টাকা গুণে রাখা হয় না। ওই ব্যক্তির বেলায় এটাও হয়ে থাকতে পারে। তবে আমার কিছুই মনে নেই। শুক্রবার ওই লোক এসে আমার হাতে ১০০ টাকা দিলে আমি টাকাটা হাতে নিয়ে তাকে ফেরত দিয়ে বলি কিছু একটা যেন কিনে খেতে।