ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অবৈধ বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের মামলায় দলটির নেতা আলমগীর সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার হোটেল গ্র্যান্ড সার্কেল ইন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলমগীর ছাগলনাইয়ার উত্তর লাঙলমোড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু তাহের জানান, ডিবির সহায়তায় আলমগীর সিদ্দিকীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবারই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুলাই রাতে ছাগলনাইয়া শহীদ মিনার এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে তিনজন আহত হন। পরদিন আহত বিএনপিকর্মী রিয়াজ উদ্দিন টিপু ছাগলনাইয়া থানায় আলমগীর সিদ্দিকীকে প্রধান করে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার প্রতিবাদে ২৯ জুলাই ছাগলনাইয়া জিরো পয়েন্টে সমাবেশের চেষ্টা করেন আসামিপক্ষের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়।
টিপুর বিরুদ্ধেও আলমগীরের সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করার পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। তবে দুজনই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাগলনাইয়ার শুভপুর এলাকায় আদালতের নির্দেশে জব্দ সরকারি বালুর স্তূপ থেকে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০ ঘনফুট বালু লোপাটের ঘটনায় আলোচনায় আসেন আলমগীর সিদ্দিকী। এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে চুরির বালুবোঝাই কয়েকটি ট্রাক জব্দ এবং ট্রাকচালক গ্রেপ্তার করা হলেও, হোতারা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, আলমগীর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থা আইন, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।