Image description

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি, মার্কেট ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমির মালিক তিনি নন।

এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনানুগভাবে জমি ফেরত পাওয়ার দাবিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন কয়েকটি দাগের জমি বৈধ দলিলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ক্রয় করা হয়। ১৯৯৭ ও ২০০৯ সালে তাদের নামে নিবন্ধিত জমিতে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে দোকানঘর নির্মাণ এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল।

 
 

তার অভিযোগ, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি আইনগত অধিকার ছাড়াই জমিতে মাটি ভরাট ও মার্কেট নির্মাণ করে জমি দখল করা হয়।

 
 

সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়ার পক্ষ থেকেও পৃথক অভিযোগ তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৫ সালে বৈধভাবে ক্রয় করা প্রায় ৭৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে তিনি একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। কিন্তু ২০০৯ সালে আব্দুল বারেক মোল্লা ও তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরের নেতৃত্বে ওই মার্কেট দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

বিএনপি নেতারা আরও দাবি করেন, জমি রক্ষার চেষ্টা করলে তারা হামলা, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তারা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আজিজ মুসুল্লী বলেন, আমরা কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধ চাই না। আমরা আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। বৈধ দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভূমি প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগভাবে তাদের ক্রয়কৃত জমি ও দলীয় কার্যালয় বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল, পৌর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর আলম শেখসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, ওই জমি আমার নয়। জমিটির মালিক আমার ভাতিজা বেলাল। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিলন মিয়ার স্ত্রী উর্মির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন। এরপর থেকে বেলাল সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে বৈধ মালিক হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। তাই আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে বেলালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। এ ব্যাপারে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।