ফরিদপুরে ১০ বছর আগে সৎ মাকে হত্যার পর এবার নিজ মাকেও হত্যার অভিযোগ উঠেছে রাহিম শেখের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ এলাকার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামেলা আক্তার (৬০) ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, শামেলা আক্তারকে তার ছেলে রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখ জানান, রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন। নেশার টাকাই হতে পারে এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ তনু বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। একজন সন্তানের হাতে নিজের মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসী আতঙ্কিত ও শোকাহত। আমরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
পুলিশ ও এলাকবাসী জানান, প্রতিবেশী দোতলার ছাদ থেকে পাশের বাড়ির নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উঠানে পড়ে থাকতে দেখে। রাহিম শেখরা দুই ভাই, দুই বোন। গত ১০ বছর আগে এই ছেলে সৎ মাকেও কুপিয়ে হত্যা করেছিল। ৫-৬ বছর হলো জামিনে বের হয়েছে। সে কিছুটা উগ্র ও নেশাগ্রস্ত ছিলো এবং প্রায় তার মাসহ ভাই, বোনদের মারধর করত।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) শুকান্ত দত্ত জানান, শহরের বায়তুল আমান এলাকায় ছেলে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই নারীকে মাথায় আঘাত করে থেতলিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। পরিবারের দাবি রাহিম শেখ মানসিক সমস্যাসহ নেশাগ্রস্ত ছিল। ঘাতকের ঘরে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদকদ্রব্য সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘাতককে ধরতে কাজ করছে।