যে বয়সে সাধারণ শিশুরা সবেমাত্র হাঁটতে শেখে কিংবা আধো আধো ভাষায় কথা বলতে শুরু করে, সেই বয়সেই ইংরেজি ভাষায় অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে খাগড়াছড়ির ১৮ মাস বয়সি শিশু শেহজাদ বিন খলিল। তার এই অনন্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’ তাকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ সম্মানে ভূষিত করেছে। ছোট্ট শেহজাদের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে খাগড়াছড়িসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলে বইছে আনন্দের জোয়ার।
জেলা সদরের খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন পশ্চিম মহাজন পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় পরিবারসহ থাকে শেহজাদ। তার বাবা ইব্রাহিম খলিল পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার। এত কম বয়সে শেহজাদের ইংরেজি বর্ণমালা, কঠিন শব্দ ও বিভিন্ন বস্তু সহজে শনাক্ত করার অসাধারণ সক্ষমতা দেখে পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সবাই বিস্মিত।
শেহজাদের বাবা ইব্রাহিম খলিল জানান, সন্তানের প্রখর স্মৃতিশক্তি ও প্রতিভা যাচাইয়ের জন্য তারা ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ ৮টি ভিডিও পাঠান। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন শেষে সংস্থাটি মাত্র ১৮ মাস বয়সেই শেহজাদকে 'গ্র্যান্ড মাস্টার' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে শেহজাদ অনেক দূর যাবে। এশিয়া বুক অব রেকর্ডসের এই সম্মাননা আমাদের সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করুক।
শেহজাদের মা তালিয়া আক্তার আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ওর বয়সি অন্য শিশুরা যখন খেলনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন শেহজাদ আনন্দের সঙ্গে ইংরেজি শব্দ শেখে ও তা মনে রাখতে পারে। সন্তানের এই অর্জনে আমরা ভীষণ আনন্দিত। ও যেন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে, সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
শুধু পরিবার নয়, খুদে এই মেধা প্রতিভার আন্তর্জাতিক অর্জনে গর্বিত প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এত অল্প বয়সে এমন মেধা সত্যিই বিরল। শেহজাদের জন্য আমরা সবাই গর্বিত। সে দেশের জন্য আরও বড় সম্মান বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশা করি।
আরেক প্রতিবেশী মনিষা দেওয়ান বলেন, শেহজাদ এখন আমাদের পুরো এলাকার গর্ব। তার এই সাফল্যে খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের মানুষ আনন্দিত। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।