Image description

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা এফআইআরভুক্ত হয়েছে।

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। এনসিপি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে মামলার প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন দাবি করেছেন, তিনি হামলার ঘটনায় জড়িত নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, এতে প্রমাণ হয়েছে এনসিপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ছাত্রদল সভাপতিকে প্রধান আসামি করে মঙ্গলবার রাতেই মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।

হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে সেদিনের কর্মসূচি স্থগিত করে এনসিপি। পরদিন বুধবার হামলার প্রতিবাদে আবারও হবিগঞ্জে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই দিনে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় জেলার সীমান্তবর্তী বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েক শ পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যারিকেড অপসারণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার পর সমঝোতা হয়।

এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উপমুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলের পাশেই কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে হাতে লেখা এজাহার জমা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।

এজাহারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন ও হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, হামলাকারীরা ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি এবং গাড়িতে থাকা ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলার ঘটনাটি সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।

 

তিনি আরও জানান, হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা সাবেক সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলায় অংশ নেয়।

মৌলভীবাজারে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বললেন, আমরা দেখব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচার করার সদিচ্ছা আছে কি না। এটি একটি টেস্ট কেস। আশা করি পরীক্ষায় পাস করবেন তিনি।

হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙে গেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।

মামলার প্রতিক্রিয়ায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন আগামীর সময়কে জানান, জুলাই আন্দোলনসহ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অসংখ্য মামলার প্রধান আসামি হয়েছি। কিন্তু গতকালের ঘটনায় আমি বা আমার সংগঠন জড়িত না থাকা সত্ত্বেও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। পাশাপাশি বলতে চাই, এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে আর কোনো তফাৎ রইল না।’

এদিকে, মামলাটি এফআইআরভুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন প্রধান আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।