Image description

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গাইবান্ধার ধাপেরহাট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট শাখার দুই কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের জমা রাখা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে গতকাল রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাহকেরা ওই কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। রাত ১২টার দিকে পুলিশ সেখানকার কর্মীদের উদ্ধার করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে গ্রাহকেরাও বাড়ি ফিরে যান।

পুলিশ ও আমানতকারীদের (সঞ্চয়ী হিসাবধারী ও এফডিআর গ্রাহক) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রেশমা বেগম নামের সাদুল্লাপুর উপজেলার একজন গ্রাহক ওই শাখায় তাঁর স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) করে রাখা পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করতে যান। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানান, তাঁর হিসাবে কোনো টাকা নেই। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাঁকে রোববার শাখা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। রোববার বিকেলে তিনি শাখায় গিয়ে জানতে পান, তাঁর জমা রসিদ ও এফডিআর চেক ভুয়া।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল বিকেল থেকেই গ্রাহকেরা ওই এজেন্ট ব্যাংক শাখার সামনে জড়ো হন। অনেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের নামে এই শাখায় কোনো এফডিআর করা হয়নি। এ সময় তাঁরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে টাকা জমা রসিদ ও এফডিআর চেক দেখান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, এই জমা রসিদ ও এফডিআর চেকগুলো নকল।

এ ছাড়া ব্যাংকের ওই শাখার সঞ্চয়ী হিসাবধারী একাধিক গ্রাহক এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের হিসাবে জমাকৃত টাকার পরিমাণেও বিশাল গরমিল। পরে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রোববার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ সম্পর্কে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক মতিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া টাকা এক মাসের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেরত দেবে—এমন শর্তে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সমাধান হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ধাপেরহাট এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, এই শাখার ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে ৪৬ গ্রাহকের সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হবে।

গ্রাহকদের আবেদন ফরম পূরণ করেন এবং টাকা গ্রহণের পর ভুয়া জমা স্লিপ এবং স্ক্যান করা এফডিআর চেক দিয়েছেন শাখার ক্যাশিয়ার
গ্রাহকদের আবেদন ফরম পূরণ করেন এবং টাকা গ্রহণের পর ভুয়া জমা স্লিপ এবং স্ক্যান করা এফডিআর চেক দিয়েছেন শাখার ক্যাশিয়ারছবি : প্রথম আলো

‘টাকা আদায় করব কীভাবে, চিন্তায় আছি’
তিন বছর আগে ওই শাখায় পাঁচ লাখ টাকা (পাঁচ বছর মেয়াদি) স্থায়ীভাবে (ফিক্সড ডিপোজিট) জমা রাখেন ভুক্তভোগী রেশমা বেগম। তিনি আরও বলেন, ‘সাংসারিক প্রয়োজনে ওই টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, আমার হিসাবে কোনো টাকা নেই। তখন আমি টাকা জমা রসিদ ও এফডিআর চেক দেখালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই জমা রসিদ ও এফডিআর চেক ভুয়া। টাকা আদায় করব কীভাবে, চিন্তায় আছি।’

আরেক গ্রাহক হেলাল মণ্ডল বলেন, ‘তিন বছর আগে এই শাখায় চার লাখ টাকা এফডিআর করেছিলাম। রোববার ব্যাংকে এসে জানতে পারি, এই শাখায় আমার নামে কোনো টাকা এফডিআর করা হয়নি। এভাবে অনেক মানুষের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

লাজু মণ্ডল নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘আমার সঞ্চয়ী হিসাবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলাম। সম্প্রতি এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। রোববার খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার হিসাবে মাত্র এক হাজার টাকা জমা রয়েছে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হাদিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলামের সহায়তায় ওই শাখার ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া এফডিআর করতে আসা গ্রাহকদের আবেদন ফরম পূরণ করেন এবং টাকা গ্রহণের পর ভুয়া জমা স্লিপ এবং স্ক্যান করা এফডিআর চেক প্রদান করেন। অভিযোগ তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকেরা যাতে তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পান, সে জন্য কাজ চলমান।