ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে তৈরি কথিত ‘নামাজের জায়গাসহ’ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আলোচিত রাজীব শাহকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানের আগেই তিনি সেখান থেকে সরে যান।
এই উদ্যানে বছর পাঁচেক ধরে এই ব্যক্তির আনাগোনা। সম্প্রতি ধান চাষ, আস্থানা নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় আসেন। তার সেই আস্তানায় বিএনপির দলীয় পতাকা টানিয়ে রাখতেন। তবে সেই ‘নামাজের জায়গা’ ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল, দৃশ্যত একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে সামনে রেখে পেছনে অন্যরা স্থাপনাটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানে নামাজও আদায় শুরু করা হয়। পরে রোববার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। উল্টো মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এখানে স্থাপনা স্থায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজীব শাহর সঙ্গে কাজ করা দেলওয়ার হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাজীব গতকাল থেকে এখানে নেই। উচ্ছেদের আগেই জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে গেছেন।’
দেলওয়ার উদ্যানে পানি বিক্রি করেন, এখানেই রাত কাটান। গত কয়েকদিন ধরে তাকে রাজীবের পাশে দেখা গেছে, মসজিদ নিয়ে কেউ ভিডিও বানাতে এলে তিনিও বক্তব্য রেখেছেন। এখানে মসজিদ হবেই, এমন বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে এখানে আছি। তখন থেকেই রাজীবও এখানে থাকতেন।’
অভিযানে এই অবৈধ নামাজের জায়গা ভাঙার পাশাপাশি উদ্যানের ভেতর আরও ভ্রাম্যমাণ দোকান ভেঙে দেওয়া হয়।
রাজীব আর ফিরে আসবেন না বলেও মনে করেন দেলওয়ার। তিনি বলেন, ‘তিনি এলে তো আমরাই মারব। সে আমার বন্ধু হতে পারে। কিন্তু তার কারণে ৬০০ মানুষের দোকান ও অন্যান্য আস্তানা ভেঙে গেছে। এত মানুষ অনাহারে রয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে বেশ কয়েকটি মসজিদ আছে। সেগুলোর আকার ছোট নয়, কোনো মসজিদে জায়গার অভাবে নামাজ পড়া যায় না, এমন অভিযোগও আসেনি।
তারপরেও উদ্যানে মসজিদ স্থাপনের চেষ্টা আসলে কেন হয়েছিল, তা নিয়ে নানামুখি আলোচনা আছে।