Image description

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। এই গণভোট ছিল জনগণের সরাসরি রায়ের প্রতীক, যা যে কোনো সংসদীয় আইনের চেয়েও শক্তিশালী। তাই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমিতে দিনাজপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ‌‘জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোট: জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে সরকারের দায় ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অনেকে দাবি করছেন এই সংস্কার ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ আইনের মর্যাদাপ্রাপ্ত। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেই জনগণের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার সারতে চাইছেন, যা জুলাই সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—গণভোটে দেওয়া জনগণের পাঁচ কোটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় ও ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের গণরায় এড়িয়ে গিয়ে পুনর্গঠিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টাকে রাজপথে ও সংসদে তীব্রভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’