Image description

বছরের পর বছর নিজের বড় বোনকে ধর্ষণ ও গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছিলেন ১৯ বছর বয়সী মানিক হোসেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিশোধ নিতে ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বোন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর সহযোগীর সহায়তায় হত্যা করিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দিঘিতে ফেলে দেন তিনি।

এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পঞ্চগড়ে মানিক হত্যা মামলার তদন্তে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের বড় বোন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে মানিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মূল ঘটনাটি খুঁজে বের করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় বোন (২৪) ও একই এলাকার শাহাবুদ্দিনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানিকের বড় বোন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পঞ্চগড় জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানিক তার বড় বোনকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। এ তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালাতেন মানিক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বড় বোন ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হত্যার দিন পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মানিককে পান করান। ওষুধের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেন বোন। পরে সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দিঘিতে ফেলে দেন। তদন্তের সময় ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল খুঁজে পায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে মানিকের বোন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

কালবেলা