Image description

২০ জুলাই শরিকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মান ভাঙাতেই নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডাকা ওই বিশেষ ডিনারে প্রতিটি দল থেকে অংশ নেবেন পাঁচজন। এরই মধ্যে বিএনপির কাছে তালিকা পাঠিয়েছে মিত্ররা। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যারা বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছেন, তারা পাচ্ছেন না এ সুযোগ।

আগামীর সময় খোঁজ নিয়ে জেনেছে, গতকাল বুধবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে শরিকদের কাছে নামের তালিকা চাওয়া হয়। দেরি না করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালিকা জমা দেয় শেখ হাসিনাবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো। সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের উদ্যোগে শরিকদের মধ্যে এসেছে স্বস্তি।

বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে চারটি জোটসহ নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে সরাসরি ৪২টি রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং তাসমিয়া প্রধান ও রাশেদ প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাগপা জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে শামিল হয়। এ ছাড়া সাতটি দলের সাতজন নেতা বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থনে যুগপতের শরিক নিবন্ধিত চারটি দলের চারজন নেতা তাদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন বিজয়ী হন, যাদের দুজনই সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক এবং বাইরের একটি ইসলামি দল মিলিয়ে মোট ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। যুগপতের বাইরের নিবন্ধিত সেই দলটি ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, যাদের বিএনপি আসন ছেড়েছিল চারটি। এ ছাড়া দলটির অনিবন্ধিত একটি অংশকেও একটি আসন ছেড়েছিল— জমিয়তের এই অংশটি ১২ দলীয় জোটভুক্ত শরিক।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২ দলীয় জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বৈঠক প্রসঙ্গে আগামীর সময়কে বললেন, ‘তারা কী জন্য বৈঠক ডেকেছে, সেটি নিশ্চয় শরিকদের জানাবেন। তারপর আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। আমরা মনে করি, কতগুলো িবষয়ে আমাদের এখনই সতর্ক ও সচেতন হওয়া দরকার। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ঐক্য ধরে রাখতে হবে, আরও সুদৃঢ় করতে হবে। কারণ, সামনের দিনগুলো খুব সহজ হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে এই ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’

বিএনপির পক্ষ থেকে নামের তালিকা চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি জানিয়েছেন, তারা তাদের দল থেকে পাঁচজনের তালিকা জমা দিয়েছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর যুগপতের শরিকদের মধ্য থেকে দুজন নেতাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করেছে দলটি। শরিকদের মধ্য থেকে আরেকজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হলেও নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন। তবে মিত্রদের মধ্যে ৩১টি দল এখন পর্যন্ত পায়নি কিছুই। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হতে যাওয়া বৈঠকে তাদের ‘যথাযথ’ মূল্যায়নের দাবি জানাবেন শরিক দলের নেতারা। ‘বঞ্চিত’ দলগুলোর নেতারা এখন ওই দুই প্রতিমন্ত্রীর বাইরে অন্য শরিকদের মধ্য থেকে ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’ হিসেবে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান আরও দু-একজনকে। কারণ, এই সরকারকে ‘জাতীয় সরকার’ বলে মনে করেন না অধিকাংশ শরিক। এ ছাড়া অন্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়নের প্রত্যাশা তাদের। সেক্ষেত্রে সংসদের উচ্চকক্ষসহ বিভিন্ন করপোরেশন ও সরকারি সংস্থায় পদায়ন চান তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে শরিক দলের নেতারা তাদের মূল্যায়নের দাবি তুলবেন বলে জানালেন ১২ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান। তিনি বলছিলেন, ‘তাদের প্রত্যাশা, বিএনপির সঙ্গে যেভাবে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, একইভাবে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনায়ও তারা সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।’

গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু আগামীর সময়কে বললেন, ‘বৈঠকের আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি আগামী ২০ জুলাই আমাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বসবেন।’