Image description

বিশ্বকাপ এখন অন্তিম লগ্নে। ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের জন্য উন্মোচন করেছে সম্পূর্ণ নতুন এক অফিশিয়াল ম্যাচ বল—‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’। ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালে এই বলের বিশ্বকাপ অভিষেকও এরইমধ্যে হয়ে গেছে।

 

 

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর রোমাঞ্চ এবং আভিজাত্যকে মাঠে ফুটবলে ফুটিয়ে তুলতেই এই বিশেষ বলটি তৈরি করা হয়েছে।

 

‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ বলটির মূল আকর্ষণ এর প্রিমিয়াম ডিজাইন। সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এতে ব্যবহার করা হয়েছে সোনালি, কালো ও সাদার এক নিখুঁত সংমিশ্রণ। তবে ডিজাইন ছাড়িয়ে এর বড় ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য হলো এর গ্রাফিক প্যানেল। উত্তর আমেরিকার তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৬টি আয়োজক শহরের নাম এই বলের গায়ে বিশেষভাবে খোদাই করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজকদের প্রতি এক দারুণ সম্মাননা। 

GeographicReference

 

 

চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দ্রুত ও নিখুঁত অফসাইড সিদ্ধান্ত। ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ বলটির ভেতরেও রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির ৫০০ হার্টজ কানেক্টেড-বল চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতি ও স্পর্শের তথ্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি রুমে পাঠায়। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো অতি সংবেদনশীল ম্যাচে কোনো বিতর্ক ছাড়াই মিলিমিটারের নিখুঁত অফসাইড ও গোল-লাইন সিদ্ধান্ত নিতে এটি রেফারিদের শতভাগ সাহায্য করবে।

 

এবারের বিশ্বকাপে বলের গতি ও গতিপথ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে ফুটবল বিশ্বে। ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ বলটি মাত্র ৪টি প্যানেল দিয়ে তৈরি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে কম প্যানেল বিশিষ্ট বল। প্যানেল সংখ্যা কম হওয়ায় বলের উপরিভাগ অনেক বেশি মসৃণ। যদিও অ্যাডিডাস এর গভীর সিম এবং টেক্সচার দিয়ে বাতাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে।

 

ইউনিভার্সিটি অফ সুকুনবার উইন্ড-টানেল গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র গতির শটে আগের ট্রিওন্ডা বলটি অবিশ্বাস্য গতিতে বাতাসে দিক পরিবর্তন করে এবং হঠাৎ নিচে নেমে আসে। জো হার্টের মতো সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষকরা মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রিওন্ডা’র এই অদ্ভুত আচরণের কারণে দূর থেকে আসা শটগুলোর উচ্চতা ও গতি অনুমান করতে বর্তমান গোলরক্ষকরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে—চলতি টুর্নামেন্টে মূল ‘ট্রিওন্ডা’ বলটি নিয়ে গোলরক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে ফিফা তড়িঘড়ি করে এই নতুন বল এনেছে।

 

এটি কোনো আকস্মিক বা জরুরি সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্বকাপের নকআউট বা ফাইনাল পর্বের জন্য আলাদা রঙের বল আনা অ্যাডিডাস ও ফিফার একটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ঐতিহ্য। প্রযুক্তিগত বা গাঠনিক দিক থেকে মূল বলের সঙ্গে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’-এর কোনো তফাত নেই। অর্থাৎ, বাহ্যিক রঙ ও ডিজাইন বদলালেও এর বাতাস ভেসে থাকার আচরণ একই রকম থাকবে।

 

সব মিলিয়ে, ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ যেমন তার সোনালি রূপ নিয়ে ফাইনালের মঞ্চকে আরও ঝলমলে করে তুলবে, ঠিক তেমনি এর ভেতরে থাকা চিপ বিতর্কহীন ম্যাচ উপহার দিতে সাহায্য করবে। তবে স্ট্রাইকারদের বাঁকানো ও জোরালো শটের সামনে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গোলরক্ষকদের জন্য এই বলটি শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এক মহা পরীক্ষাই হয়ে থাকবে।