উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারেও। সতর্ক সংকেত জারির পর বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে পর্যটকের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে লাল পতাকা উত্তোলন করে পর্যটকদের সাগরে নামতে নিরুৎসাহিত করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সতর্ক সংকেত জারির পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। লাইফগার্ড সদস্যরা মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর পানিতে না নামার আহ্বান জানাচ্ছেন।
সমুদ্রে দায়িত্ব পালনরত লাইফগার্ড সদস্য মোহাম্মদ ওসমান বললেন, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গভীর পানিতে না নামতে অনুরোধ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সতর্ক সংকেতের কারণে সমুদ্রে গোসল করতে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলেও যারা সৈকতে এসেছেন তাদের অনেকেই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা এবং হাঁটাহাঁটি করেই সময় কাটাতে দেখা গেছে। অন্যদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে লাইফগার্ড সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং লাল পতাকা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করছেন।