Image description

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

তবে রাতের মধ্যে দূরপাল্লার কয়েকটি বাস রাজশাহী ছেড়ে গেলেও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহীর নওদা পাড়া, শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে যায়নি।

জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দাবি করে আসছেন অধিকাংশ সদস্য।

এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দুই পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবিকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখি এবং তার অনুসারীরা ওই দিন টার্মিনাল এলাকায় বোমাবাজি করেন।

পরে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন।

সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেন। পরে জেলা প্রশাসক ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেন।

নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম তার কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিক নেতারা সংগঠনের সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে জেলা প্রশাসক জানান, এখন সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। তিনি প্রশাসন, পুলিশ ও নজরুল ইসলাম হেলালকে নিয়ে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।

এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী শ্রমিক নেতারা বৈঠক ত্যাগ করেন এবং বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন।

পরে শিরোইল বাস টার্মিনালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, "আমরা সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চেয়েছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার একটি পক্ষের কথা শুনে কমিটি করতে চেয়েছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।"

তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে নজরুল ইসলাম হেলাল ও রফিকুল ইসলাম পাখির পক্ষের লোকজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন মালিক হিসেবে নজরুল ইসলাম হেলালের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের একটি অংশ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে চায়। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব নয়। তাই তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি সমাধানে আমরা কাজ করছি।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, বৈঠকে কথা কাটাকাটি হতে পারে। কিন্তু এর জেরে বাস বন্ধ রাখা কিংবা আমার চেম্বারে হামলা-লুটপাট করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চাই।