Image description

ছোট্ট সন্তানকে বুকের সঙ্গে আগলে ধরে বন থেকে বেরিয়ে এলো মা বানর। ক্ষুধায় কাতর মা-সন্তান চুপচাপ বসে আছে রাস্তার পাশে। মানুষের ভিড়, যানবাহনের শব্দ—কোনো কিছুতেই যেন ভ্রুক্ষেপ নেই। একটাই অপেক্ষা, যদি কেউ একটু খাবার দেয়।

সোমবার হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা সড়কের ডাকঘরের সীমানাপ্রাচীরের ওপর এমন দৃশ্যই দেখা যায়। বন ছেড়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসা মা বানরটি বুকের সঙ্গে বাচ্চাটিকে জড়িয়ে বসে ছিল। ছোট্ট বাচ্চাটিও মায়ের বুক আঁকড়ে ধরে পথচারীদের দিকে তাকিয়ে ছিল অসহায় চোখে। দৃশ্যটি দেখে অনেক পথচারী থেমে যান।

প্রথমে এক পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী পাশের একটি দোকান থেকে দুটি কলা কিনে এনে বানরটির দিকে বাড়িয়ে দেন। আরেক পথচারী পাউরুটি এনে দেন। মা বানরটি ভয় না পেয়ে ধীরে ধীরে পথচারীদের কাছে এসে হাত বাড়িয়ে খাবারগুলো গ্রহণ করে। সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত ছিল, মা বানর নিজে না খেয়ে আগে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়। সন্তানের খাওয়া নিশ্চিত করার পর নিজে খেতে শুরু করে।

দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। কেউ কেউ বলছিলেন, ভালোবাসা, মমতা আর সন্তানের প্রতি মায়ের টান; এসবের ভাষা মানুষ ও প্রাণী উভয়ের কাছেই এক।

পথচারী আব্দুল আহাদ বলেন, দৃশ্যটি দেখে খুব কষ্ট লেগেছে। বন কমে যাওয়ায় বন্য প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। মানুষ হিসেবে আমাদের তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।

আরেক পথচারী রঞ্জিত কুমার দাস জানান, মা আর সন্তানের এই দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। খাবার পেয়ে যেভাবে তারা খাচ্ছিল, তাতে মনে হয়েছে তারা অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে ছিল।

এনজিওকর্মী আব্দুল বাছির রাজার ভাষ্য, বন্য প্রাণী প্রকৃতির সম্পদ। তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রঘুনন্দন রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ে বন্য প্রাণীর খাদ্যসংকট দেখা দিলে তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। আবার ঝড়-বৃষ্টির কারণেও অনেক সময় পথ হারিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। খাদ্যসংকট কমাতে বন বিভাগ বনজ ফলদ গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু করেছে।