দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টানা ছয় দিন ধরে চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে নৌ পথে সন্দ্বীপের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, এই অবস্থার ফলে সন্দ্বীপ ঘাট, বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট ও কুমিরা ঘাটে কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ফলে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ, স্টিমার ও ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ সন্দ্বীপ থেকে বাইরে যেতে পারছেন না, আবার বাইরের যাত্রীরাও সন্দ্বীপে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে আটকে থাকা ফেরি কপোতাক্ষের শতাধিক যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশবাড়িয়া ঘাটে সন্দ্বীপগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন চার দিন ধরে আটকে রয়েছে। এসব গাড়িতে কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য থাকায় ব্যবসায়ীরা বড়ো ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা ওয়াশরুম না থাকায় যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া, গুপ্তছড়া ও কুমিরা ঘাটে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। সাপ্তাহিক ছুটির পর কর্মদিবস শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে পুকুরের পাড় উপচে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন মৎস্যচাষিরা। এতে তারা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ অবস্থানে থাকতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।