রাতের আঁধারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বেশ কয়েকটি ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের নজরে আসলে এসব ব্যানার-ফেস্টুন খুলে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও রবীন্দ্র-নজরুল অ্যাকাডেমিক ভবন এলাকায় এসব ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়।
ব্যানারগুলোতে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের বিচার দাবি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ব্যানার ফেস্টুনগুলোর নিচে ‘ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে তার ছবি সম্বলিত একটি ফেস্টুনের নিচে সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি রতন কুমার রায় এবং একটি ব্যানারে সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ রানার নাম উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে মাসুদ রানাকে গত বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে বাইরে রয়েছেন। তাদের ব্যানার সাঁটানোর ছবি এবং ভিডিও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও প্রচার করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, শীঘ্রই ইবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন হতে পারে। আসন্ন কমিটি নিয়ে কেন্দ্রের সুনজরে থাকতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা দুইজন কয়েকজন কর্মীসহ এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় তারা ক্যাম্পাসে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। এছাড়া তারা সামনে ধারাবাহিকভাবে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ছাত্রলীগ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন। বিষয়টি জানার পরপরই নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে সব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে হয়েছে। তিনি ইবি থানার ওসিকে বলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সময়ের আলো