Image description

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ এবং সমাবেশস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনায় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকার সরকার নিশ্চিত করবে কি না সেসব প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি দলের মতো বিরোধী দলেরও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার থেকেই জুলাই মাস উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সারা দেশে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার সাভারে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, তিনি নিজে এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আখতার হোসেনের অভিযোগ, তারা মঞ্চে ওঠার আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বক্তব্য চলাকালে সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই আহত ও রক্তাক্ত হন। বিস্ফোরণের পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় সমাবেশস্থল ছেয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতারা থানায় চলে যান।

সংসদে তিনি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে আছি। সভা-সমাবেশ করার অধিকার সংবিধান আমাদের দিয়েছে। তাহলে সমাবেশের সময় কেন বিদ্যুৎ থাকবে না? কেন বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো? এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে জবাব জানতে চাই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি যখনই জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখনই বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এর আগেও দলের কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আখতার হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, তিনি এবং দলের আরও অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, ‘পতিত স্বৈরাচারের সহযোগী এবং যারা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ কী? কেন ওই সময়ে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং আমাদের নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার সরকার নিশ্চিত করবে কি না।’

এ সময় স্পিকার আখতার হোসেনকে এ বিষয়ে একটি নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, সংসদে এ নিয়ে বিতর্কের প্রয়োজন নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে আইনমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমি এই মর্মে আশ্বস্ত করতে চাই, ঘটনার সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব, সর্বোচ্চ কঠোর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করবে।’