Image description

এবার নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা ঠেকানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। আগে দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইজারা চুক্তি না করার দাবি জানানো হলেও এই প্রথম চুক্তি বাস্তবায়ন ঠেকানোর হুঁশিয়ারি আসলো সংগঠন থেকে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে হোটেল সৈকতে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে বন্দর রক্ষা কমিটি। সেখানে বক্তারা এই হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তারা অবিলম্বে এনসিটি-সিসিটি সংক্রান্ত চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও আইনগত মূল্যায়ন, সংসদীয় আলোচনা ও জনপরামর্শ ছাড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি না করার দাবি জানান।

লিখিত ধারণাপত্রে সংগঠনের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু জানিয়েছেন, লাভজনক এনসিটি কেন বিদেশিদের ইজারা দেয়া হচ্ছে তার কারণ-প্রয়োজনীয়তা এখনো সরকার ব্যাখ্যা করতে পারেনি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে কনসেশন চুক্তির মেয়াদ, আর্থিক কাঠামো, রাজস্ব বণ্টন, দায়বদ্ধতা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার শর্তাবলি এখনো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদের বিষয়ে গোপনীয়তার কোনো সুযোগ নেই; জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং প্রায় দেড় হাজার বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ধারক। বন্দরের মতো কৌশলগত জাতীয় সম্পদ নিয়ে আবেগ বা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নয়; আগামী ৫০ বছর দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থে এর প্রভাব কী হবে, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‘জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে এনসিটি–সিসিটি ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তারা যেন অতীতের রাজনৈতিক পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না’— উল্লেখ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে নৌবাহিনীর ঘাঁটি, বিমান বাহিনীর স্থাপনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি, জ্বালানি সংরক্ষণাগারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো অবস্থিত। ফলে এনসিটি ও সিসিটির দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও উত্থাপন করে।

বক্তব্য দেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ. এম. নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কমরেড অশোক সাহা, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিনিয়র সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ।