অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ভেঙে দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে এক বছরের জন্য বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস (প্রশাসক বোর্ড) গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে গত রবিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩৫(৭) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের সাবেক ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলম। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত উপাচার্য থাকলে তিনি পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সাময়িকভাবে এ প্রশাসক বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
সরকার আটটি শর্তে বোর্ডটি গঠন করেছে। এসব শর্ত অনুযায়ী, বোর্ডের মেয়াদ এক বছর। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। নতুন ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদিত হলে প্রশাসক বোর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। বিশেষ প্রয়োজনে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বোর্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস বাড়ানো যাবে।
এ ছাড়া প্রশাসক বোর্ড বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে এবং একই সময় অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের কাছে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
প্রজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নেছার উদ্দিন প্রজ্ঞাপনটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা জানান, তিনি বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি তখনও তাঁর কাছে পৌঁছেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ট্রাস্টি বোর্ডকে ঘিরে বিরোধ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগে ইউজিসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার।