রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার ফল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার কোনো স্থান নেই। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মানবিক ভুল ও চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার ফল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় নবজাতকদের রাখা কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কক্ষটি ছিল সম্পূর্ণ বদ্ধ, সেখানে জানালা ছিল না, পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবাহের ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে শিশুরা কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে সৃষ্ট শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতিতে ছটফট করতে করতে মারা যায়।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই অতীতের বিভিন্ন হাসপাতাল দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতাল কিংবা বার্ন ইউনিটের দুর্ঘটনা ছিল বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা। আর আদ্-দ্বীনের ঘটনা হলো সম্পূর্ণ মানবিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফল। হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে আমি দেখতে পাই, হাসপাতাল ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অগ্নি-নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগুন লাগলে কোনো রোগী, স্বজন বা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরও হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। বরং প্রশাসনিক দায়িত্বে পরিবর্তন এনে নিজের স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী করা হয়েছে। নিহত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা মাথা কাটতে বলিনি, আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। তদন্ত চলছে, সরকার সবকিছু দেখবে। কিন্তু এই ঘটনাকে দলীয় রাজনীতির বিষয় বানানো উচিত নয়।’