ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন হলের সিট দখল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদলের হামলায় বাধা দিলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।
রোববার (২৮ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রয়েল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা কলেজ শাখার সদস্য সচিব মো. সজীব উদ্দিনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা।
এর আগে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন হলে দীর্ঘদিন ধরে এক শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে আবাসিক হলের একটি সিটে রাখার অভিযোগে রুমমেটরা প্রতিবাদ জানালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তোলেন। ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।’
তিনি বলেন, “একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে নিরাপত্তার জন্য একটি কক্ষে আশ্রয় দিলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কক্ষটির দরজা ভেঙে তাকে বের করে মারধরের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। পরে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মিল্লাদ হোসেনের নেতৃত্বে এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াহিদ ফরাজিসহ ১০-১৫ জন নেতাকর্মী জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার দায়িত্বশীল মো. সজীব উদ্দিন ও আশরাফুলকে ‘মীমাংসার’ কথা বলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এতে মো. সজীব উদ্দিন গুরুতর আহত হন। হামলার পরও তারা ক্যাম্পাসে একাধিকবার মহড়া দিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের নাম ধরে খোঁজ করতে থাকেন।”
তিনি দাবি করেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনার সঙ্গে সজীব উদ্দিন ও আশরাফুলের কেউই সম্পৃক্ত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদেরও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান সীমান্তের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী ফরহাদ হলে প্রবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর দক্ষিণের নেতা রয়েল হাসান নয়নকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা সফল হলে ঢাকা কলেজে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। তারা বলেন, ‘অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
তাদের অভিযোগ, হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে পারভেজ, শিহাব, দিন মোহাম্মদ, সীমান্ত, আশিক ও জীবনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তারা দাবি করেন, তারা সবাই দক্ষিণায়ন হলের আবাসিক এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ প্রশাসন ও হল প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এবং হামলায় জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে একটি সিট দখল করে রাখার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠে।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ মোশাররফ, মেহেদী হাসান সীমান্ত ও দ্বীন মোহাম্মদ।
