Image description

আসন্ন অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বছরে করযোগ্য বেতনভিত্তিক আয় ৬ লাখ টাকার কম হলে কোনো কর দিতে হবে না। তবে চাকরিজীবীদের আয়ের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত রাখার সুবিধাটি বহাল থাকছে।

তবে করদাতাদের জন্য করমুক্ত সীমা বাড়ানো হলেও করের সামগ্রিক চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কারণ, নতুন বিধানে কর রেয়াতের পরিমাণ কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ ও এফডিআরের সুদের ওপর উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য না করে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর বাইরেও প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে নিয়মিত হারে কর দিয়ে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের যে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে তা বাতিল করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে ব্যাংকিং চ্যানেলে উৎসাহিত করতে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার নিয়মটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের ওপর করহার আগের মতোই বহাল থাকছে।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সীমা আরও বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে করমুক্ত আয়সীমা আরও ২৫ হাজার টাকা বাড়ছে।

এনবিআরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত এনবিআর প্রতি ২-৩ বছর পরপর করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করে থাকে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য এই সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ লাখ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই লাখ টাকা করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত সীমায় নতুন কোনো পরিবর্তন না এনে আগের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকাই বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত সীমার একটি ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের প্রথম তফসিলে সংশোধন এনে ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ নামে একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। এর অধীনে নিয়মিত হারে কর দিয়ে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই জমি বা ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আগে কেউ সম্পত্তি ক্রয়ের সময় প্রকৃত মূল্য গোপন করলে তা রিটার্নে দেখানোর ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর ক্রেতার জন্য ৩০ শতাংশ এবং বিক্রেতার জন্য ১৫ শতাংশ মূলধনি কর ধার্য হতো। ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা ও অন্যান্য আইনি শর্তও প্রযোজ্য ছিল। নানামুখী সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ সুবিধাটি এখন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।