রাজশাহীতে অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাংগো লাভার’–এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারের দাবি, হামলাকারীরা অফিস তছনছ করে দুজনকে আহত এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকা লুটে নিয়ে গেছে।
এই হামলার পেছনে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ম্যাংগো লাভারের মালিক মুরাদ পারভেজ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে শুভ এর পেছনে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর পারিবারিক বিরোধকে সামনে এনেছেন। তিনি তাদের নিবৃত্ত করতেই ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
রাজশাহী পবার নওহাটা কলেজ মোড়ে ম্যাংগো লাভার অফিসে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে হামলা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মুরাদ পারভেজের বাড়ি নওহাটা পৌর এলাকার পাইকপাড়ায়।
ভবনের নৈশপ্রহরী কাজী হাতেম জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভবনের উপরে উঠে হামলা ও মারধর করে। তাদের মধ্যে তিনি মাসুদ পারভেজ শুভকেও দেখেছেন।
এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ম্যাংগো লাভারের কর্ণধার মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আসবাব নষ্ট করেছে।
তিনি দাবি করেন, ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলাকারী কার্যালয়ে উঠে তাণ্ডব চালায় এবং দুই কর্মচারীকে গুরুতর আহত করে। তিনি নিজে সরে গিয়ে রক্ষা পান। হামলাকারীদের ধস্তাধস্তির সময় তাঁর ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুরাদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এজাহারে সংশ্লিষ্টদের নাম উল্লেখ করবেন।
সাবেক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ করেছেন ম্যাংগো লাভারের কর্ণধার। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। সকালে সাংবাদিকদের কার্যালয় দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুরাদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনলাইনে আম বিক্রি করে চলে আমার জীবিকা। হামলাকারীরা ব্যাপক ক্ষতি করেছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ পারভেজ শুভ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ম্যাংগো লাভারের কর্মচারী আশিকের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই রাসেলের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। আশিকই লোকজন নিয়ে ম্যাংগো লাভারের কার্যালয়ে যান। তাদের বাড়ি নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ইকুঁড়ি এলাকায়। প্রতিবেশী হিসেবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে হিয়েছিলেন শুভ।
তিনি বলেন, কলেজ মোড় এলাকায় দুপক্ষের জড়ো হওয়ার খবরে সেখানে যাই। ভবনের নিচতলায় ওয়ালটনের বিক্রয়কেন্দ্র, দ্বিতীয় তলা ফাঁকা এবং তৃতীয় তলায় ভবনের মালিক ও ওয়ালটন বিক্রয় কেন্দ্রের স্বত্বাধিকারী আলী ইমাম জুয়েল বসবাস করেন। নিচে ফটকে থেকে লোকজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি।
শুভর দাবি, কাউকে উপরে উঠতে দিইনি এবং নিজেও যাইনি। হামলার বিষয়ে প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতে বলে তিনি।
হামলায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী– মো. সাকিব (২৪) ও মো. তানিম (২৮) আহত হন। তাদের বাড়ি পবার বায়া এলাকায়। রাতেই তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলায় আহত ম্যাংগো লাভারের এক কর্মী চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাকিবের বাম হাঁটু ফোলা। আর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তানিমের মুখের বাম পাশে ফোলা ও মাথায় হালকা আঘাত লেগেছে। তাদের কারও আঘাত গুরুতর নয়। দ্রুত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’
আহত তানিম জানান, ছুটির সময় তিনি অফিসের সামনে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন লাঠি, চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্র হাতে জোর করে ভবনের উপরে ওঠার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে সিঁড়িতেই তাঁকে মারধর করে। পরে তারা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। মারধরের একপর্যায়ে তানিম জ্ঞান হারান।
এদিকে, ঘটনার খবরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পবা থানার এসআই আসিব নাসিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সেখানে তারা দুটি ল্যাপটপ তারের সঙ্গে ঝুলন্ত, একটি ভাঙা টি-টেবিল ও কাচের টুকরো পেয়েছেন। তাঁর প্রাথমিক ধারণা, ধস্তাধস্তি ও মারামারির সময় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এসআই আরও জানান, ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভবনের মালিক জানিয়েছেন– প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে পারেননি তারা। মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।