Image description

গায়ে কালো পোশাক। পা খালি। হাঁটতে হাঁটতে সবাই বুক চাপড়ে বলছেন- ‘আখেরি সালাম নাও, ওহে নানাজান। তোমার হোসেন যায় কারবালার ময়দান’।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শুরু হওয়া তাজিয়া মিছিলে এভাবেই কারবালাকে স্মরণ করেন শিয়ারা।

মিছিলটি বকশীবাজার, আলিয়া মাদ্রাসা, কলপাড় মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ চৌরাস্তা, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা, নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক, বিজিবি ৪ নম্বর গেট ও সাত মসজিদ রোডে শেষ হয়।

সরেজমিনে শুক্রবার ভোর থেকে হোসেনী দালানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পাওয়া হয়। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক ইমামবাড়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ নামাজ ও ইবাদতে সময় পার করেন। আবার কেউ কারবালার শোকগাথা স্মরণ করে মাতমে অংশ নেন।

তাজিয়া মিছিলে। ছবি: স্ট্রিমতাজিয়া মিছিলে। ছবি: স্ট্রিম

মিছিলের সামনে ছিল কালো ব্যানার, পাঞ্জা, বেহেশতি নিশান, প্রতীকী দুলদুল ঘোড়া, খুনি ঘোড়া এবং একটি তাজিয়া। মিছিল শুরুর আগে অনেক ভক্তকে প্রতীকী দুলদুল ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢেলে সেই দুধ শরীর ও মুখে মাখতে দেখা যায়।

ভক্তরা জানায়, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কারবালার শোক স্মৃতি এবং ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা এই আচার পালন করেন।

রাজধানী মিরপুর থেকে মিছিলে আসা আফজাল হোসেন বলেন, শত শত বছর ধরে ইমাম হোসাইন (রা.) শহীদ হওয়ার দিন স্মরণে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এই মিছিল মূলত শোক মিছিল।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আফরোজা খানম বলেন, আমি প্রথমবার তাজিয়া মিছিলে অংশ নিয়েছি। আমার খুব ভালো লাগছে।  মোহাম্মদ আলী বলেন, কারবালার ঘটনা কেবল ইতিহাস নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা। প্রতি বছর এই দিনে আমরা সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করি এবং সত্যের পথে থাকার অঙ্গীকার করি।

হোসেনী দালান ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মীর জুলফিকার আলী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে তাজিয়া মিছিল হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

মহরম মিছিল কমিটির আহ্বায়ক এম এম ফিরোজ হোসেন বলেন, আজকের দিনের বার্তা হচ্ছে, আমাদের সত্যের সঙ্গে থাকতে হবে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে কারবালার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

মিছিলের পুরো সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আগেই দা, ছুরি, বর্শা, তরবারি, লাঠি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।