Image description

বিএনপি সরকার গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের সব বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আফসোস! বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই মতকে অগ্রাহ্য করল। ফলে আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানেই থেকে গেলাম। কোনো পরিবর্তন আসল না।’

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যে এ কথা বলছিলেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালে একবার ১৯৭১ সালে আরেকবার। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিল- তাদের ব্যর্থতার কারণে আজও কোনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”

এই সময় জামায়াত আমির বলেন, “সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সকল ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারব।

অধিবেশনে জামায়াতের আমির ‘বাংলাদেশের সীমান্ত’, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা’ ও ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির’ কথা তুলে ধরেন।

“শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ ‘বড় আশাবাদী হয়েছিলেন’ বলে মনে করেন শফিকুর রহমান। তার কথায়, “অনেকগুলো জীবনের বিনিময়ে আমরা একটি পরিবর্তন পেয়েছি। বাংলাদেশ আগামীতে সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জনগণের দেওয়া রায় সরকারি দল অগ্রাহ্য করলেও আমরা বিরোধী দল অগ্রাহ্য করব না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে এসেছি। ইতোমধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। এ রায় দিয়েছে জনগণ, জনগণের স্বার্থেই এ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সংবিধানে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে যাতে কেউ দুর্দান্ত ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে। জনগণের সম্পদ, ইজ্জত নিয়ে যাতে কেউ খেলতে না পারে- তার ওয়ারেন্টির জন্যই এ পরিবর্তন বা সংস্কার অপরিহার্য।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে আমির বলেন, “সমাজ ভালো নেই। ৫-৭ বছরের মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। গতকালও মা-মেয়েসহ চারজনকে খুন করা হয়েছে।”

এসময় তিনি গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার সমালোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে, তাদের অধীনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আছেন। তারপরও অহরহ এগুলো ঘটে যাচ্ছে। সাড়ে ১৫ বছরের কষ্ট ও এতোগুলো জীবন ত্যাগের পরে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে মানুষ ভিন্ন কিছু আশা করে।”

মজলিসে শূরার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান এমপি, আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অনেকে।

শীর্ষনিউজ