Image description

মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডাটা কেটে নেওয়া এবং সপ্তাহের শেষ দিকে বিমানের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পয়েন্ট অব অর্ডারে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘গতকাল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে আমরা জেনেছি, চারটি টেলিফোন কোম্পানির কাছে সরকারের ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশে এটি বিশাল অংকের রাজস্ব। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে এই টাকা পাওনা।’

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ এক মাসের জন্য হয়তো ১০০০ টাকার ইন্টারনেট কিনলাম। কিন্তু মাস শেষে দেখা গেল ৪০০ বা ৫০০ টাকার ইন্টারনেট অব্যবহৃত রয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলে সেই টাকা বা ডাটা অটোমেটিক্যালি কোম্পানিগুলোর পকেটে চলে যায়। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায়। এই টাকা কেন তারা নিয়ে যাবে?’

বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারুক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যারা যাতায়াত করেন, তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যদিন যে টিকিটের দাম ২৮০০ বা ৩০০০ টাকা, বৃহস্পতিবার সেটি হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা। এই বিষয়গুলো দেখা দরকার।’

জয়নুল আবদিন ফারুকের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিমানের টিকিটের ওপর যে জুলুম চলছে, সে বিষয়ে আমি আগেও নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এটি আলোচনার যোগ্য একটি বিষয়। মানুষের ওপর এই জুলুম বন্ধ হওয়া উচিত।’

 

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু টেলিফোন কোম্পানি নয়, সাবেক অনেক সংসদ সদস্যের কাছেও টেলিফোন বিল ও বাড়ি ভাড়া বাবদ অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই জাতীয় সম্পদগুলো উদ্ধারে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কেউ মারা যাওয়ার আগে যেন এই ঋণের বোঝা নিয়ে না যান, সে ব্যবস্থা করা উচিত।’

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আপনারা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো তুললেন, সেগুলোর জন্য যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ দিন। নোটিশ দিলে আমরা অবশ্যই সংসদে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেবো।’