Image description

উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য যে অফিস রয়েছে সেখানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের একজন করে যোগ্য সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমান।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিজ্ঞাপন

আনিসুর রহমান বাজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের কল্যাণে উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পুনর্বাসন ও কল্যাণে বিশেষ বরাদ্দ বিবেচনার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, আমরা উপজেলা পরিষদে যে অফিস পেয়েছি, সেই অফিসে জুলাই শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া পরিবারের যেকোনো একজন যোগ্য সদস্যকে আমরা যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তারা উপকৃত হবে।

বড় প্রকল্পে নারাজ, এলাকায় আবার ব্রিজ চান

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, বড় প্রকল্পের কথা উঠলেই বিরোধীরা বাজেট বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আপত্তি করেন; কিন্তু নিজের এলাকার জন্য আবার রাস্তা, ব্রিজ ও অবকাঠামো চান।

বাজেটকে সাহসী আখ্যা দিয়ে হুম্মাম বলেন, সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে আলাদা করে না দেখে এগুলোকে একসঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। কারিগরি শিক্ষায় বড় বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হুম্মাম।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে নদী থেকে তোলা বালুর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই অবৈধভাবে উত্তোলন হয়। অবৈধ বালু উত্তোলন এখন মাফিয়া সেক্টর হয়ে গেছে। এই সেক্টরের কারণে তার এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানো যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশকে আরও প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত করতে হবে।

ইতিহাসের বড় ঘাটতি বাজেট

ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেন বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই বাজেটকে আমরা জনবান্ধব না বলে দলবান্ধব বললে অত্যুক্তি হবে না । অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা তুলে ধরে কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা অনেক বেশি। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হলে এ বিষয়ে ভাবতে হবে।

তিনি সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত প্রতিনিধির বদলে প্রশাসক বসানোর সমালোচনা করে বলেন, মানুষ নিয়মিত কর দিলেও সেবা পাচ্ছে না।