সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে জব্দ করা প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল সংখ্যক মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা। এর মধ্যে ছিল ১৩ হাজার ১৯০ বোতল ফেনসিডিল, ২৯ হাজার ৮৩০ পিস ইয়াবা, ৮ হাজার ৯৬২ বোতল বিদেশি মদ, ৬৭ হাজার ৮৬৬ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৭ পিস মদ তৈরির ট্যাবলেট।
দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি), ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) ও দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব মাদক জব্দ করে। পরে নিয়ম অনুযায়ী তা ধ্বংস করা হয়।
কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি মানুষের মেধা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে বিপথগামী করে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম মাঈন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাসুদ হাসান।
এসময় জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।