Image description

ভারতের নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও দিল্লি পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেন, গত ২৩ জুন আন্দোলনস্থলের কাছে এক সমর্থকের উপর হামলা চালানো হয়। তার অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক আক্রমণ ও অনলাইন হুমকির মুখে পড়ছেন। তা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।

সংগঠনের দাবি, হামলায় আহত ব্যক্তির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে মাথায় একাধিক গভীর ক্ষতের উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সৌরভ দাস বললেন, হামলার ঘটনায় তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা হওয়া উচিত। তার ভাষ্য, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।

সাংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আন্দোলনকারীদের সহায়তাকারীদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তার দাবি, পুলিশের কাছে হামলাকারীদের পরিচয় তুলে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার দাবি, একজনকে আটক করা হলেও হামলায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

প্রতিবাদ জানাতে সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমর্থকদের হাতে ‘আমি আরশোলা, সন্ত্রাসবাদী নই’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিরোধী মতকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং প্রতিবাদীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। সংগঠনের মূল দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও পুনরায় জানানো হয়েছে।

এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বললেন, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা ছাত্রছাত্রীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তার দাবি, নিজেদের অধিকার, স্বচ্ছ পরীক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবিতে আন্দোলন করা ছাত্রদের এভাবে অপমান করা যায় না। রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উচিত ছাত্রদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগ করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।