আজ বৃহস্পতিবার দৈনিক আমার দেশ তাদের ছাপা সংস্করণে “ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে মুসলিম নির্যাতনের চিত্র বোঝাতে চারটি ছবি ফিচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ব্যবহৃত চারটি ছবির মধ্যে অন্তত দুটি ছবি সরাসরি মুসলিম নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর একটি ছবি ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ ঘিরে দিল্লির সহিংসতার সময়কার। আরেকটি ছবি ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া বলিউড চলচ্চিত্র ‘পারজানিয়া’র একটি দৃশ্য।
তবে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত প্রথম দুটি ছবি ভারতে ধর্মীয় নির্যাতনের সাথে সম্পর্কিত।
আমার দেশের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তিন নম্বর ছবিটি যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত ‘Delhi violence: Clashes between pro and anti CAA protesters kill 5’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ঘিরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় একজন হেড কনস্টেবলসহ অন্তত চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আধাসামরিক বাহিনী ও দিল্লি পুলিশের সদস্যসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। সহিংসতার সময় বিক্ষোভকারীরা ঘরবাড়ি, দোকান, যানবাহন ও একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন দেয় এবং পাথর নিক্ষেপ করে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ ছবিটি সিএএ ঘিরে দিল্লির সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হলেও, আমার দেশের প্রতিবেদনে যেভাবে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতীকী ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঙ্গে ছবিটির প্রাসঙ্গিকতা নেই।
এছাড়া প্রতিবেদনে ব্যবহৃত চার নম্বর ছবিটিও বাস্তব কোনো মুসলিম নির্যাতনের ঘটনার ছবি নয়। রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, এটি ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পারজানিয়া’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য।

২০০৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ‘Using Bollywood Ideas to Portray Today’s India’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে একই ছবি ফিচার ইমেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “A scene from ‘Parzania,’ one of the films playing in the ‘India Now’ festival at the Museum of Modern Art. Credit...Serene Picture Classics.” অর্থাৎ, “মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া নাও’ উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি ‘পারজানিয়া’র দৃশ্য। ছবি: সেরিন পিকচার ক্লাসিকস।”
প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বাকি দুটি ছবির ক্ষেত্রেও দ্য ডিসেন্ট যাচাই করেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দুটি ছবির সঙ্গে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সংঘটিত ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রথম ছবিটি যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে একই ছবি ব্যবহার করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ মার্চ দিল্লির ইন্দরলোক এলাকায় রাস্তায় নামাজরত মুসল্লিদের এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর লাথি দেন। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দ্বিতীয় ছবিটি যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে একই ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, “ভারতে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে মসজিদ।”

পরে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশে ১৮৫ বছরের পুরোনো একটি মসজিদের একাংশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদের ওই অংশ বান্দা-বাহরাইচ মহাসড়কের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল।