আওয়ামী আমলে সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডও অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার এক চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। লুটেরা-ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২২ আগস্ট, ২০২৪ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বে আসেন। অতীতের দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তিনি, তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে- এটা ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হলো- প্রতিষ্ঠানের চিত্র কিছুই বদলায়নি। চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম অতীতের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ন্যূনতম নজিরও স্থাপন করতে পারেননি বা করেননি। বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে দুর্নীতির ধারা বজায় রেখেছেন তিনি, এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নতুন সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সেবাদানের মানের অবনতি ঘটেছে। সরকারের তরফ থেকে বিদ্যুৎ সংকট বা লোডশেডিং নেই- বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ক্রমাগত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মালামাল কেনাকাটায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাসহ নানা রকমের অপকর্মের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) ইতিপূর্বে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চার্ডন কোরিয়া কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ৫২৭টি এসিআর কিনে, যেগুলোর প্রায় সবকটিই খুব অল্প বা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল হয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এই অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ প্রদান করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাপবিবো কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বাপাবিবো কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ইতিপূর্বে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিংসান কোরিয়া থেকেও ৩০০টি নিম্নমানের এসিআর ক্রয় করেছিল। উক্ত এসিআর গুলো পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ব্যবহার করতে পারে নি। পরবর্তীতে উক্ত এসিআর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে এসিআর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলেও ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ পর্যন্ত।
বরং একই দুর্নীতির ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান জিয়া-উল-আজিমের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নতুন করে এসিআর কেনা নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের প্রক্রিয়া হয়। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বিআরইবি (বাংলাদেশ রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ড) দুটি প্যাকেজের আওতায় ১২০টি ১১ কেভি এবং ১০০টি ৩৩ কেভি এসিআর কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে দরপত্র আহ্বান করে। এসব দরপত্রে অংশ নেয় একাধিক প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ‘এম আর বি আর কর্পোরেশন’ নামের একটি নতুন কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়ার বিএইচ সিস্টেম কো. লি.-এর পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। যদিও এই কোম্পানি বা তাদের প্রস্তাবিত সরবরাহকারী পূর্বে বাংলাদেশের কোন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় কিংবা নিজ দেশসহ পৃথিবীর কোথাও কোনো বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থায় দরপত্রে চাহিদাকৃত ১১ কেভি এসিআর সরবরাহ করেনি, তথাপি সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি তাদের প্রস্তাবিত পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই-বাছাই না করে অনভিজ্ঞ এসিআর উৎপাদনকারী ও সার্ভিস প্রদানকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে। একই কোম্পানিকে ৩৩ কেভি এসিআর সরবরাহের কাজে ৭১৩ নং বোর্ড সভায় কারিগরিভাবে নন রেসপন্সিভ করা হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুসারে উৎপাদনকারীর ন্যূনতম ১ (এক) বছরের দরপত্রে আহ্বানকৃত মালের সন্তোষজনক অপারেশনের অভিজ্ঞতা সনদপত্র পৃথিবীর যেকোনো বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা থেকে দিতে হবে। কিন্তু দরপত্রে গুণগত মালামাল ক্রয় নিশ্চিত করার এই শর্তটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, দরপত্রে ১২০টি ১১ কেভি এসিআর ক্রয়ের জন্য আহ্বান করা হয়েছে, অথচ উক্ত কোরিয়ান কোম্পানির তার ৯ বছরের উৎপাদন মেয়াদে এতগুলো এসিআর বানানোর কোন অভিজ্ঞতা নেই।
দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের দরপত্রের সঙ্গে যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে, তাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের আয় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, যা আয়কর বিভাগের একজন উপ-কর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়নও পেয়েছে। কিন্তু, হাফিজ আহমেদ অ্যান্ড কোং কর্তৃক জারি করা অডিট রিপোর্ট অনুসারে, ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত বছরের আয় ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ১১ হাজার ৩২৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়ে কার্যত রাষ্ট্রীয় রাজস্ব হরণ করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা শুধু দুর্নীতির ইঙ্গিতই দেয় না, বরং সরকারী ক্রয়নীতির আইনি শর্তাবলীর সরাসরি লঙ্ঘনও। ইতিপূর্বে বিআরইবি এই ধরনের জাল কাগজপত্রাদির জন্য সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। কিন্তু এই দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিআরইবি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি লুকিয়ে গিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দরদাতা প্রতিষ্ঠান-এম আর বি আর কর্পোরেশনের মালিক ইতিপূর্বে বিআরইবিতে কর্মরত ছিল। সে তার এই পরিচিতি ব্যবহার করে উক্ত অসামঞ্জস্যতা ডেকে কার্যাদেশ প্রাপ্তির জন্য তদবির করে বোর্ডে উপস্থাপন করেছিল। উক্ত অসামঞ্জস্যতার বিরুদ্ধে বোর্ড সিদ্ধান্ত না নিয়ে যাচাইকরণের জন্য টিইসি কমিটিকে নির্দেশ দেয়। পুরো ঘটনার সঙ্গে মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম সরাসরি জড়িত ছিলেন। চেয়ারম্যানের এ অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় বয়ে যায়। কিন্তু তিনি উপরের মহলকে ম্যানেজ করে সবকিছু ধামাচাপা দেন তিনি।
স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনে অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার (এসিআর) স্থাপন করতে হয়। বিদ্যুৎ লাইনে কোনো সমস্যা হলে এই যন্ত্র তা মুহূর্তেই টের পায়। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং চোখের পলকেই ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। গোটা কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয় বলে যে এলাকায় এ যন্ত্রগুলো যত বেশি দক্ষতায় কাজ করে সে এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং তত কম ঘটে। কিন্তু এই এসিআর-এ ত্রুটি থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না। বর্তমানে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি বড় কারণ হিসেবে বিতরণ লাইনে নিম্নমানের অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার (এসিআর) ব্যবহারকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু এসিআর-ই নয়, আরইবি’র কেনা প্রত্যেকটি মালামালই অত্যন্ত নিম্নমানের। ভয়াবহ অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের মালামাল অতি উচ্চ মূল্যে কেনা হচ্ছে। এবং এর পুরো দায় পড়ছে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রয় ও সরবরাহ করা নিম্নমানের মিটারের কারণে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিপূর্বে একটি মিটার ২০-৩০ বছর সেবা দিলেও বর্তমানে ২-৩ মাসেই মিটার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে মোট ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৪শ’ ৯৩টি মিটার নষ্টের তথ্য পাওয়া গেছে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৫১ কোটি ৯৬ লাখ ৪২ হাজার ৩শ’ টাকা। বর্তমানে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। এসব মিটার ভুল ও এলোমেলো রিডিং দিচ্ছে, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ‘ভূতুড়ে বিল’। এর দায়ভার মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের ওপর চাপালেও মূলত আরইবি-র ক্রয় প্রক্রিয়ার অসাধুতার কারণেই এমনটা ঘটছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সারাদেশের প্রায় সব সমিতির স্টোর এখন নষ্ট মিটারের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।
কেনাকাটায় অনিয়মের দায় এক পর্যায়ে পুরোটাই চাপে গ্রাহকের ওপর। একদিকে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের মালামালের কারণে যথাযথ সেবাও পাচ্ছেন না গ্রাহক। সামান্য বৃষ্টি বা হালকা বাতাসেই বিদ্যুৎহীন থাকছে গ্রামগঞ্জ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় দু-তিন দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। চাহিদা অনুযায়ী মালামাল পায় না পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো, আবার অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছে দফায় দফায়। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর পাঠানো অপ্রয়োজনীয় মালামালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) স্টোরগুলো ভরে রাখা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়ম ও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করার কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাত রসাতলে চলে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় মালামাল পাঠিয়ে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম প্রকল্পগুলোকে স্থবির করে দিয়েছেন। তাঁর এসব অনিয়মের সঙ্গে কিছু সমিতিও জড়িত রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বিআরইবি’র কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয়ভাবে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের মালামাল ক্রয় করেন। চাহিদার সঠিক মূল্যায়ন না করে এমন সব মালামাল কেনা হচ্ছে যা দীর্ঘ বছর ধরে স্টোরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি সমিতিতে গড়ে ৫-৬ কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় মালামাল পড়ে আছে, যার মোট বাজার মূল্য আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর স্টোরে গেলে এই অপচয়ের চিত্র স্বচক্ষেই দেখা যাবে।
বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৭০ হাজার টাকায় যে ল্যাপটপ পাওয়া যায়, সেই ল্যাপটপ একেকটি কেনা হয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকায়। এছাড়া রাউটার, প্রিন্টার, স্লিপ প্রিন্টার, এসিসহ বিভিন্ন পণ্য বাজার দরের চেয়ে কেনা হয়েছে কয়েকগুন বেশি দামে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কেনাকাটায় এমন নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সামনে এসেছে। ‘প্রি-পেমেন্ট ই-মিটারিং ইন ঢাকা ডিভিশন আন্ডার রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম (ফেইজ-১)’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় ১১টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য এসব মালপত্র কিনেছে আরইবি। প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি সমিতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েশন গ্রুপ লিমিটেড (ডব্লিউজিএল) এবং অপর ছয়টি সমিতিতে মালপত্র সরবরাহ করেছে হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এইচইএল)। একই প্রকল্পের আওতায় একই কাজের জন্য দুই ধাপে এসব মালপত্র কেনা হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির দামের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।
ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ যে মানের ল্যাপটপ ও প্রিন্টার যথাক্রমে ১ লাখ ১ হাজার ৭’শ ৬১ টাকা এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ৩’শ ৩৯ টাকায় কেনা হয়েছে, একই মানের সরঞ্জাম ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ ও মুন্সিগঞ্জ সমিতিতে কেনা হয়েছে যথাক্রমে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮’শ ৪৪ টাকা এবং ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬ টাকায়। আবার নরসিংদীতে স্ক্যানার ক্রয় করা হয় ৩৫ হাজার ৩’শ ৯৪ টাকায়। একই মানের স্ক্যানার ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ ও মুন্সিগঞ্জ সমিতিতে ক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৫ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ টাকা। বিশেষ করে একই মানের মালামালের দামে এ রকমের আকাশ-পাতাল পার্থক্য ভয়াবহ দুর্নীতির দিকে আঙুল তোলে। কেনাকাটাগুলো যদিও কিছুটা আগের কিন্তু ফাঁস হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান কোনো ব্যবস্থা নেননি। সংশ্লিষ্ট সমিতির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আরইবি সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করার কথা থাকলেও তারা নিজেরাই দুর্নীতির মাধ্যমে ‘বালিশ কান্ড’র মতো লুটপাট চালাচ্ছে। এমন লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত রসাতলের দিকে যাবে, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
- শীর্ষ প্রতিবেদন