Image description

ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের কোনও সন্ধান মেলেনি। ১৮ জুন থেকে নিখোঁজ থাকা এ শিক্ষার্থীকে ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে। এদিকে পরিবার গুমের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য মেলেনি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান এবং চলমান তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জকসু প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সব ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

আজ মুঠোফোনে কথা বলার সময় প্রক্টর জানান, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করছে। সর্বশেষ কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, কোথায় থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়েছেন এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে তার গতিবিধি কী ছিল এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের গতি বাড়াতে থানার পক্ষ থেকে তিন জন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পাওয়া যাবে।

 

তদন্তের বিষয়ে ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি এবং ধাপে ধাপে তার গতিপথ অনুসরণের চেষ্টা করছি। তবে অনেক স্থানে প্রয়োজনীয় ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা ক্যামেরা অচল থাকায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ওসির নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ধরনের অনুমান বা তকমা দেওয়া ঠিক হবে না। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা মো. আবুল কালাম বলেন, ১৮ জুন সন্ধ্যায় ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ তার মায়ের কথা হয়েছিল। রাতে আমি ফোন করলে বন্ধ পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেছে অথবা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কিন্তু পরদিনও ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনও তথ্য না পেয়ে ২০ জুন ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা চরম উৎকণ্ঠা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। ছয় দিন ধরে ছেলের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নানা শঙ্কা কাজ করছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ আমার ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হোক।

এদিকে সিরাজুল ইসলামের সন্ধান দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তার সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিরাজুল ইসলামের সন্ধান পেলে ০১৭১২-০৭১১১৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।